নিশাদ কুমারছবি: AI নির্মিত
Published on
:
2 min read
অনুষ্ঠান স্থলে যখন পুরুষদের টি৪৭ লং জাম্প ইভেন্টে ভারতের নিশাদ কুমারের নাম ঘোষণা করা হলো, তখন টিভির সামনে বসা তাঁর পরিবারের সদস্যরাও চমকে উঠেছিলেন। বাড়ির বড় ছেলে জাপানে গিয়েছেন হাই জাম্পের সোনা ধরে রাখতে, তিনি লং জাম্পে নামলেন কী ভাবে? কোচিং স্টাফ ও ঘনিষ্ঠ দুই-একজন ছাড়া এই পরিকল্পনার খবর ছিল না কারও কাছেই। আর সবাইকে স্তব্ধ করে দিয়ে সেই আনকোরা ইভেন্টেই সোনা জিতে নিলেন নিশাদ। রূপকথার তখনও বাকি ছিল। এই অভাবনীয় সাফল্যের ঠিক ২৪ ঘণ্টার মাথায় নিজের চেনা আঙিনা টি৪৭ হাই জাম্পে নেমে ২.০৪ মিটারের লাফে নতুন গেমস রেকর্ড গড়ে হাই জাম্পেও দাপট অক্ষুণ্ণ রাখলেন তিনি।
আলাদা ইভেন্টে ঐতিহাসিক পদক
আইচি-নাগোয়ার মাটিতে দাঁড়িয়ে ভারতের সর্বকালের অন্যতম সেরা প্যারা-অ্যাথলিট এখন এক ঐতিহাসিক ডাবল গোল্ডের মালিক। দুটো আলাদা আলাদা ইভেন্টে এল সোনা। তবে এই সাফল্যের পেছনে লুকিয়ে রয়েছে গত এক বছরের শারীরিক যন্ত্রণা আর ট্যাকটিক্যাল লড়াইয়ের কাহিনি।
জাপানে জোড়া সোনা গলায় ঝুলিয়ে ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিশাদ স্পষ্ট জানান, এই পরিবর্তনের পেছনে কোনও পূর্বপরিকল্পনা ছিল না, ছিল স্রেফ চোট থেকে বাঁচার জন্য এই কাজ করেছেন তিনি। নিশাদ বলেন, ‘আমার হাঁটুতে দীর্ঘ এক বছর ধরে ব্যথা ছিল। হাই জাম্পে শরীরকে টেক অফের সময় প্রায় ৬০ ডিগ্রি কোণে বাঁকাতে হয়, এতে শরীরের ওজনটা পড়ছিল আমার চোট পাওয়া হাঁটুতে। ফলে অনুশীলন চালানোই অসম্ভব হয়ে উঠছিল। তখন আমরা সিদ্ধান্ত নিই যে হাই জাম্পের শারীরিক ধকল কমাতে লং জাম্পে হাত পাকানো যায় কি না।’
সক্ষম ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে নেমে অনুশীলন
চলতি মরশুমে হাই জাম্পে নামেননি নিশাদ। সেপ্টেম্বর মাসে মাস্কাটে সক্ষম ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে মাস্কাট ওপেনে নেমে নিজেকে ঝালিয়ে নেন। ১৯ অক্টোবর নাগোয়ায় লং জাম্পে নেমে প্রথম আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণেই ৭.১১ মিটারের ঝাঁপ দিয়ে সোনা জেতেন তিনি। এরপর ২০ অক্টোবর হাই জাম্পের আসরেও নিজের স্ট্র্যাটেজি বজায় রাখেন। নিশাদ চোটের কথা মাথায় রেখে বেশি উচ্চতায় লাফাননি। ২.০৪ মিটার লাফিয়ে গেমস রেকর্ড ও সোনা নিশ্চিত হতেই খেলা শেষ করেন। পদক জয়ের পর তিনি বলেন, ‘এখন তো দেখছি ঝামেলা বেড়ে গেল। এতদিন একটা মেডেলের দিকে তাকিয়ে সেলিব্রেট করতাম। এখন বাঁয়ে তাকালে লং জাম্পের সোনা, ডানে তাকালে হাই জাম্পের সোনা—কোনটার দিকে তাকাব বুঝতে পারছি না।’
