মাগুরা পৌর যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাকের হোসেনকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জেলা যুবদল। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে একাধিক দল কাজ করছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে মাগুরা শহরের হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মিছিলটি মধুমিতা সিনেমা হলের
সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির সভাপতি মাসুদ হাসান খান কিজিল, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ওয়াশিকুর রহমান কল্লোল, সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আহমেদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক গোলাম জাহিদ, সদস্য সচিব আব্দুর রহিমসহ, কৃষক দল ও অন্যান্য অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। মিছিল থেকে শাকের হোসেন হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়।
মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, শাকের হত্যার ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শারমিন আক্তার বুধবার রাতে অজ্ঞাতদের আসামি করে মাগুরা সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন কয়েকজনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্ঘাটন ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
প্রসঙ্গত, বুধবার ভোর সোয়া ৫টার দিকে মাগুরা বাস টার্মিনালে রয়েল পরিবহনের কাউন্টারে শাকের হোসেনকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে তাকে মাগুরা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের সদস্যরা মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার পর গোসল করানোর সময় তার মাথার পেছনে ছিদ্র দেখতে পান। পরে তাকে আবার হাসপাতালে নেওয়া হয়। ময়নাতদন্তের সময় তার মাথা থেকে একটি গুলি উদ্ধার করা হয়।
নিহত শাকের মাগুরা শহরের পারনান্দুয়ালী বেপারীপাড়া এলাকার মরহুম কুতুব উদ্দিনের ছেলে। তিনি মাগুরা পৌর যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি বাস টার্মিনালে রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টারে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
স্বজনদের দাবি, শাকেরকে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত না করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য পুলিশ প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ করেছেন তারা।
