Published on
:
1 min read
পার্থ দত্ত
যোগাসন শিখলে কি সরকারি চাকরি মেলে? বাংলায় এত দিন এই প্রশ্নের একটাই উত্তর ছিল—না।
কিন্তু বাংলায় নতুন বিজেপি সরকার এসেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অতি প্রিয় যোগাসনকে বাড়তি গুরুত্ব দিতে শুরু করেছে। তার প্রথম সুফল হিন্দমোটরের মেয়ে ঋতু মণ্ডলের ওয়েস্ট বেঙ্গল পুলিশে চাকরি পাওয়া। এর আগে খেলোয়াড় কোটায় যোগাসনে কেউ চাকরি পাননি।
২১ বছরের ঋতু গত কয়েক বছর ধরেই ভারতীয় যোগাসনের সফল মুখ। চলতি বছরের জুনে আমেদাবাদে বিশ্ব যোগাসন চ্যাম্পিয়নশিপে ৭০ দেশের প্রতিযোগীদের টক্কর দিয়ে জোড়া সোনা জিতেছিলেন তিনি। ট্র্যাডিশনাল যোগাসনের সিঙ্গলের পাশাপাশি তিনি টিমেও সোনা পান। তার আগের বছর এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপেও তাঁর ছিল জোড়া সোনা। তবে তিনি চাকরিটা পেয়েছেন গত বছর উত্তরাখণ্ডে জাতীয় গেমসে বাংলাকে ট্র্যাডিশনাল যোগাসনে পদক এনে দেওয়ার জন্যই।
পুজোর ঠিক আগে বাড়ির মেয়ে এমন সরকারি চাকরি পাওয়ায় আনন্দে ভাসছে হিন্দমোটরের মণ্ডল পরিবার। বাবা গৌরহরি সামান্য রাজমিস্ত্রি। মা মানসী গৃহবধূ। ঋতুর থেকে বছর চারেকের বড় গৌতমও যোগাসনের সফল খেলোয়াড় ছিলেন। কিন্তু আর্থিক সঙ্কটে পড়াশোনা, যোগাসনে নিজেকে তৈরি করার বদলে রোজগারের ধান্দায় গৌতম যোগা কোচ হয়ে যান। তবে বোনকে তিনি পড়াশোনা, খেলাধুলোর ব্যাপারে এগিয়ে দিয়েছেন। ঋতুর পক্ষে তাই যোগাসনে পুরোপুরি মনোনিবেশ করার পাশাপাশি পড়াশোনাও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে। ইকনমিক্সে অনার্স নিয়ে ঋতু পড়ছেন উত্তরপ্রদেশের গালগোটিয়াস ইউনিভার্সিটিতে।
গৌতম বলছিলেন, ‘যোগাসন করলে এই রাজ্যে যে সরকারি চাকরি পাওয়া যাবে, তা আমাদের কল্পনার বাইরে ছিল। ঋতুকে তাই আমি পড়াশোনা করে চাকরির চেষ্টা চালাতে বলেছিলাম। কিন্তু রাজ্যে নতুন সরকার এসে যোগাসনকে গুরুত্ব দেওয়ায় আমার বোন চাকরি পেল। আমি খুব খুশি। সরকারকেও ধন্যবাদ।’ গৌতম মনে করেন, এই চাকরি তাঁর বোনের যোগা জীবনকে আরও উজ্জ্বলতর করে তুলবেই।
ঋতুর চাকরির উদাহরণে বাংলার যোগাসনেও উৎসাহের ঢল নামার অপেক্ষা।