সংযুক্ত আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে ব্যাটিং বিপর্যয়ের চিরাচরিত রূপ দেখিয়েছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ৯৯ রানের হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও আফগানিস্তানের কাছে বিধ্বস্ত হয়েছে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে। ফলে ফাইনালের আগেই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। পরপর দুই ম্যাচে বাজে হারের পর সংবাদ সম্মেলনে এসে ব্যাটারদের ব্যর্থতার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন টাইগার দলের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়।
বুধবার দুবাইয়ের শারজাহ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমেছিল বাংলাদেশ দল। তবে শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে পুরো ৫০ ওভার ব্যাটিং করতে পারেনি তারা। ৪২তম ওভারে অলআউট হওয়ার আগে টাইগাররা স্কোর বোর্ডে তোলে ১৬০ রান। সেই লক্ষ্য তাড়ায় নেমে আফগানিস্তান ৮৭ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেটের সহজ জয় তুলে নেয়। রোববারের ফাইনালে তারা মুখোমুখি হবে জিম্বাবুয়ের।
চোটের কারণে সিরিজ শুরুর আগমুহূর্তে দল থেকে ছিটকে যান নিয়মিত অধিনায়ক লিটন দাস। তার অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়া হৃদয় ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমরা একই ভুল বারবার করছি। ব্যাটিং ইউনিট আবারও ভুল করেছে। শুরুতেই আমরা কিছু উইকেট হারিয়ে ফেলি, এটাই হারের মূল কারণ। এটা নিয়েও আমরা আলোচনা করেছি। তবে টপ অর্ডারের কলাপ্সই মূল কারণ। আমরা এটা নিয়ে কাজ করব।’
দলের ব্যাটারদের ব্যর্থতা নিয়ে হৃদয় বলছিলেন, ‘আমার যেটা মনে হয়েছেÑ কোন কোন জায়গা বলতে চাইছি না। তবে খুব ক্লিয়ার একটা জায়গা, আমরা ব্যাটাররা দুটো ম্যাচেই বাজে ব্যাটিং করেছি। যে কারণে পুরো দল সাফার করেছে।’ ৪০-৫০ নয়, আরও অন্তত ১০০ রান করা উচিত ছিল বলে দাবি এই মিডল অর্ডার ব্যাটারের, ‘৪০-৫০ রান না। আমরা অন্তত ১০০ রান কম করেছি। এটা ব্যাটিংয়ের জন্য খুবই ভালো উইকেট। টপ অর্ডার থেকে বড় রান করতে হবে।’
জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানকে ফাইনালে রেখে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিলেও দলের পাইপলাইনে উপযুক্ত খেলোয়াড় আছে বলে দাবি করেন হৃদয়। তবে দেশের বাইরে ব্যাটিং ব্যর্থতার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি জানান, ‘এক-দুই ম্যাচ দিয়ে বলতে চাই না দলের কী হলো। পাইপলাইনে অবশ্যই যথেষ্ট খেলোয়াড় আছে। তবে অ্যাওয়ে সিরিজে আমরা ভালো করতে পারছি না। বাইরের কন্ডিশনে খেলার জন্য ব্যাটিং ইউনিটের কিছু জায়গায় উন্নতির খুব প্রয়োজন।’
আফগানিস্তানের কাছে শেষ পাঁচ ম্যাচের সব কটিতে এবং জিম্বাবুয়ের কাছে চার ম্যাচে তিন ম্যাচ হার। তবু অজুহাত খুঁজে নিলেন হৃদয়, ‘এই দল নিয়েই বড় বড় দলকে হারিয়েছি। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তানÑ সব হোমে ছিল। এক-দুই ম্যাচ দিয়ে বলতে চাই না দলের কী হলো। দল ভালো অবস্থায়ই আছে। কিছু জায়গা চোখের সামনে, সবাই দেখতে পাচ্ছেÑ ব্যাটিং ইউনিট। বাইরে খেললে খুব বাজে ব্যাটিং করছি। যে কারণে পুরো দল সংগ্রাম করছে। দেশে প্রতি ম্যাচেই ব্যাটাররা ভালো করেছে।’
সমস্যাটা স্কিলে নয়, বরং মানসিকতায় উল্লেখ করে ডানহাতি এই ব্যাটার বলেন, ‘সমস্যা মাইন্ডসেটে। এখানে উন্নতির দরকার আছে। প্রফেশনাল প্লেয়ার হিসেবে বাইরের কন্ডিশনে মানিয়ে নেওয়া জরুরি। অ্যাওয়েতে বেশির ভাগ ম্যাচই আমরা হেরেছি। এখানে কাজ করতে হবে।’
সামনে এশিয়া কাপ ও ওয়ানডে বিশ্বকাপ। তবে শিক্ষা নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করে হৃদয় যোগ করেন, ‘এই সিরিজ থেকে শিক্ষা নেওয়ার অনেক কিছু আছে। ব্যাটিং ও ফিল্ডিংয়ে আমাদের উন্নতি করতে হবে। তবে আমাদের হাতে সময় আছে। এশিয়া কাপ আবার আমাদের দেশেই হবে, আশা করি আমরা ঘুরে দাঁড়াব।’
