নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সরকারি খাদ্যগুদাম ‘নারায়ণগঞ্জ সাইলো’ থেকে খাদ্যশস্য পরিবহণের ভাড়া নিয়ে ঠিকাদার ও পরিবহণ শ্রমিকদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। এর জেরে গত পাঁচ দিন ধরে চাল-গমসহ খাদ্যশস্য পরিবহণ বন্ধ রয়েছে। এতে সরকারি খাদ্য সরবরাহ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সাইলো কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের সূত্রে জানা যায়, জ্বালানি ও গাড়ি পরিচালনার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পরিবহণ ভাড়া সমন্বয়ের দাবি জানিয়েছেন শ্রমিকেরা। তবে সরকারি দরপত্রে নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দিতে রাজি নন ঠিকাদাররা। এ নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের একপর্যায়ে পরিবহণ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
বাংলাদেশ আন্তজেলা ট্রাক-কাভার্ডভ্যান ও মিনি ট্রাক চালক শ্রমিক ইউনিয়নের সাইলো শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান লিপু বলেন, জ্বালানি ও পরিবহণ পরিচালনার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান ভাড়ায় গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। যৌক্তিকভাবে ভাড়া সমন্বয়ের দাবি জানানো হয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমস্যার সমাধান করে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অন্যদিকে ঠিকাদারদের বক্তব্য, সরকারি দরপত্রে নির্ধারিত দর ও বাজেটের বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
কেন্দ্রীয় খাদ্য সরবরাহ ঠিকাদার সমিতির সভাপতি ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. আব্দুল হাই রাজু বলেন, একটি কুচক্রী মহল পরিবহণ শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সাইলো ও বিশ্ব খাদ্যগুদাম সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। সেখান থেকে খাদ্যশস্য সরবরাহ বন্ধ রাখা কোনোভাবেই কাম্য নয়। পরিস্থিতির প্রকৃত কারণ তদন্ত করে দ্রুত পরিবহণ কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সাইলোর সুপার রিয়াজুল আলমের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি ব্যস্ততার কথা বলে ফোন কেটে দেন।