কালবেলা · আন্তর্জাতিক
সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নতুন এক হাতিয়ার ব্যবহার করছে হুতিরা
২৪/১০/২০২৬

সৌদি আরবের বিরুদ্ধে প্রচারযুদ্ধে ‘নতুন ধরনের’ হাতিয়ার ব্যবহার করছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। কোনো নতুন ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের যৌন অপরাধী ও অর্থলগ্নিকারী জেফরি এপস্টিনের নাম ও তার সংশ্লিষ্ট নথিকে কাজে লাগিয়ে সৌদি আরবকে হেয় করার চেষ্টা করছে গোষ্ঠীটি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ধাপে ধাপে প্রকাশ করা এপস্টিন-সংশ্লিষ্ট কিছু নথিকে কেন্দ্র করে প্রচারণা চালাচ্ছে হুতিরা। এসব নথির মধ্যে এমন কিছু প্রতিবেদন রয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে, সৌদি রাজদরবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এপস্টিনকে কাবার গিলাফের নকশা ও আবরণসংবলিত ট্যাপেস্ট্রি বা দেয়ালে ঝোলানোর কাপড় উপহার দিয়েছিলেন।
হুতিদের প্রচার কার্যক্রমে বিবৃতি, ভিডিও, গান, বক্তৃতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবশালীদের পোস্টসহ বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব প্রচারের লক্ষ্য সৌদি আরবের মতো প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করা। সৌদি আরব ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন করে, যার সঙ্গে হুতিদের গৃহযুদ্ধ চলছে।
প্রচারের কেন্দ্রে মক্কা
চলতি গ্রীষ্মে যুদ্ধ নতুন করে তীব্র হওয়ার পর হুতিদের প্রচার কার্যক্রম আরও গতি পেয়েছে। এসব প্রচারে নিজেদের বিদেশি প্রভাবের বিরুদ্ধে ইসলামের রক্ষক হিসেবে তুলে ধরছে গোষ্ঠীটি।
গত মাসে সৌদি আরব অভিযোগ করেছিল, হুতিরা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে পবিত্র নগরী মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। তবে হুতিরা এ অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে। ইসলামের পবিত্রতম স্থান কাবার অবস্থান মক্কায়।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে হুতি-নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে গোষ্ঠীটির প্রেসিডেন্ট মাহদি আল-মাশাতের একটি বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘যারা এপস্টিনকে কাবার গিলাফ দিয়েছিল, তারাই মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু করছে।’
চলতি বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টিন-সংশ্লিষ্ট নথি প্রকাশের পর ট্যাপেস্ট্রি নিয়ে প্রতিবেদন বা হুতিদের অভিযোগের বিষয়ে সৌদি কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।
আল-মাশাতের বক্তব্য হুতিদের বিভিন্ন প্রচারমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ইয়েমেনি কৌতুকাভিনেতা মোস্তফা আল-মোমারি বিষয়টি নিয়ে একটি ভিডিও তৈরি করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তার অনুসারীর সংখ্যা ২৭ লাখের বেশি। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইয়েমেনের একজন ঐতিহ্যবাহী সংগীতশিল্পীও এ অভিযোগ নিয়ে গান লিখেছেন।
প্রচারে প্রভাবশালীদের ব্যবহার
২০২৩ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর হুতি ও সৌদি আরবের বিষয়ে অবস্থান বদলানো ইয়েমেনি কৌতুকাভিনেতা মোস্তফা আল-মোমারি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সমালোচনা করেছেন।
২০১৯ সালে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে আত্মহত্যা করে মারা যান এপস্টিন বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন। হুতি নেতা আবদুল মালিক আল-হুতির বক্তৃতায়ও প্রায়ই তার প্রসঙ্গ উঠে আসে।
গত ফেব্রুয়ারিতে এক ভাষণে আল-হুতি বলেছিলেন, ‘এপস্টিনের নথিগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। এগুলো এমন এক জায়নবাদী আঁতুড়ঘর উন্মোচন করে, যেখানে নেতা ও অভিজাতদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।’
হুতিদের এই প্রচার কৌশল কিছু ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, এপস্টিনের নথি নিয়ে নিয়মিত পোস্ট করা জনপ্রিয় ডানপন্থী পডকাস্টার জেক শিল্ডস এক পর্যায়ে হুতিদের প্রতিরোধক্ষমতার প্রশংসা করেন।
হুতিদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি তাদের বড় ভক্ত। আমার মনে হয়, তারা বেশ দুঃসাহসী।’
সূত্র : নিউইয়র্ক টাইমস
মূল প্রতিবেদনে যান ↗