ইউরোপীয় ফুটবলের অভিজাত মঞ্চে রূপকথার অবিশ্বাস্য এক গল্প লিখে চলেছে সেস্ক ফ্যাব্রোগাসের শিষ্যরা। ঘরের মাঠ স্টাডিও জুসেপ্পে সিনিগাগলিয়ায় তিনবারের ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ৪-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে বিধ্বস্ত করেছে ইতালীয় ক্লাব কোমো ১৯০৭।
দলের এই স্মরণীয় জয় ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের রক্ষণভাগকে একাই চূর্ণবিচূর্ণ করার মূল নায়ক ২২ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার নিকো পাস। নিজের দুর্দান্ত জোড়া গোল (ব্রেস) ও একটি চমৎকার অ্যাসিস্টে ইউরোপের অন্যতম উদীয়মান তারকা হিসেবে নিজের শক্ত অবস্থান জানান দিলেন এই তরুণ তুর্কি।
ম্যাচের শুরু থেকেই কোমোর হাই-প্রেসিং ও কৌশলগত টেকটিক্সের সামনে দিশেহারা হয়ে পড়ে ইউনাইটেড। মাত্র ১১৮ সেকেন্ডের মাথায় নিকো পাসের ক্লিনিকাল ফিনিশিংয়ে লিড নেয় কোমো (১-০)। এই দ্রুততম গোলের মাধ্যমে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় টানা দুই ম্যাচে শুরুর দুই মিনিটের মধ্যে গোল খাওয়ার অনাকাঙ্ক্ষিত এক অলস ইতিহাস গড়ল রেড ডেভিলরা। দ্বিতীয় অর্ধে পাসের নিখুঁত থ্রু পাস থেকে আনাসতাসিওস দোভিকাস স্কোরলাইন ২-০ করেন।
এর কিছু পরই কার্লোস বালেবার থেকে বল কেড়ে নিয়ে একক প্রচেষ্টায় ২৫ মিটার ড্রিবল করে দলের ৩ নম্বর গোলটি সম্পন্ন করেন পাস নিজেই। ম্যাচের ৭৬ মিনিটে কাইকি ব্রুনোর ক্রস থেকে সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যাক-হেডারে জ্যাকোবো রামোন দলের ৪র্থ গোলটি নিশ্চিত করেন। অতিরিক্ত সময়ে (৯০+১ মিনিট) জশুয়া জার্কজির গোলটি ইউনাইটেডের ব্যবধান কমানো ছাড়া কাজের কিছুই ছিল না। পরিসংখ্যান বলছে, ৫৪% বল পজেশন ও ৯টি অন-টার্গেট শট নিয়ে মাঠের লড়াইয়ে ম্যানচেস্টারকে পুরোপুরি কোণঠাসা করে রাখে ফ্যাব্রোগাসের দল।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে কোমো ম্যানেজার সেস্ক ফ্যাব্রোগাস এক বিস্ময়কর আক্ষেপের কথা জানান। আগামী সাসুওলোর বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সিরি আ ম্যাচের কথা ভেবে ফুটবলারদের শক্তি বাঁচাতে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর খেলার গতি কমিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
আর এই গতি কমানোর কারণেই ক্লিন শিট বা গোলমুক্ত পোস্ট রক্ষা করা সম্ভব হয়নি বলে নিজ ঘাড়ে দায় নেন এই স্প্যানিশ কোচ। অন্যদিকে, মৌসুমে ১১ ম্যাচে মাত্র ২টি জয়ের মুখ দেখা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের প্রধান কোচ মাইকেল ক্যারিকের ওপর এই লজ্জাজনক পরাজয়ের পর বরখাস্তের তীব্র চাপ সৃষ্টি হলো।
