পশ্চিম মেদিনীপুর শহরের ডাকবাংলো রোড এলাকার বাসিন্দা বধূ স্নেহা চক্রবর্তীর অস্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে এখনও চলছে জোর টানাপোড়েন। কীভাবে মৃত্যু হল বধূর, তা নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা। তারই মাঝে স্নেহার মৃত্যু তদন্তে সিট গঠন করল জেলা পুলিশ। বৃহস্পতিবার ওই ‘অভিশপ্ত’ বিএমডব্লিউটি বাজেয়াপ্ত করেছে কোতয়ালি থানার পুলিশ। এদিকে, সিটের নজরে থাকা রণদীপের বন্ধু বাশারের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।
সিটের নজরে থাকা শেখ আবুল বাশার পেশায় ব্যবসায়ী। একটি চালকলের মালিক। মেদিনীপুর শহরের সিপাই বাজারের বাসিন্দা। স্নেহার মা সুলেখা চক্রবর্তী বলেন, “রণদীপের বাবার গ্যারেজ রয়েছে। সেখানে বিশ্বকর্মা পুজো হয়। ওই পুজোতেই বাশারকে দেখেছিলাম। কথা হয়নি। তার আগে মেয়ে স্নেহার মুখে বাশারের কথা শুনেছিলাম। অভিযোগ, বাশার নাকি মাঝেমধ্যেই স্নেহাকে অপমান করত। তবে তাতে কোনওদিন প্রতিবাদ করেননি স্নেহার স্বামী রণদীপ।”
জানা গিয়েছে, যমুনাবালির বাসিন্দা রণদীপ জানার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল বছর পঁচিশের স্নেহার। দুই পরিবারের সম্মতিতে গত ডিসেম্বরে তাঁদের বিয়ে হয়। সেই সময় জামাইয়ের দাবি মতো যৌতুকও দেন স্নেহার বাবা। অভিযোগ, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চাহিদা বাড়ছিল রণদীপের। সম্প্রতি বাপের বাড়ি থেকে ১০ লক্ষ টাকা আনার জন্য স্নেহার উপর চাপ দিতে শুরু করেন তিনি। গোটা ঘটনায় রণদীপকে উসকানি দিত তাঁর বন্ধু বশার। কয়েকদিন ধরে বিএমডব্লিউ কেনা নিয়ে দম্পতির মধ্যে অশান্তি চলছিল। এসবের মাঝে বন্ধু বশারের সঙ্গে গিয়ে বিলাসবহুল গাড়ি কিনে ফেরেন রণদীপ। তারপর রণদীপ ও বশার স্নেহাকে বেধড়ক মারধর করে বলেও অভিযোগ। গত ১০ অক্টোবর রাতে শ্বশুরবাড়িতেই মেলে স্নেহার দেহ।
বুধবার রণদীপের এক আত্মীয় আদালতে দাঁড়িয়ে দাবি করেন, নিহত স্নেহার স্বামী নিজেই বিত্তশালী। তাই তাঁকে গাড়ি কেনার জন্য শ্বশুরবাড়ির কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কোনও প্রয়োজনীয়তা নেই। নিজেই কিনতে পারে। সোশাল মিডিয়ায় তাঁকে নিজে অযথা গুজব রটানো হচ্ছে। স্নেহার বাবার দাবি অবশ্য অন্যরকম। তাঁর দাবি, বিয়ের সময় মেয়েকে তিনি ৪৫ লক্ষ টাকা গয়না দেন। স্নেহার মায়ের কিছু গয়নাও নাকি তিনি ব্যবহার করতেন। সেই গয়নার এখন আর কোনও খোঁজ নেই।
