আবুধাবি টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫৩ রানেই ৩ উইকেটের পতন ঘটলেও মুশফিকুর রহিম ও নাজমুল হোসেন শান্তর দৃঢ় জুটিতে বিশাল লিডের দিকে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। দিনের শেষভাগে দ্রুত কয়েকটি উইকেটের পতন সত্ত্বেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এখনো লাল-সবুজ দলের হাতেই রয়েছে। ৩ দিন শেষে সফরকারীদের স্কোর দাঁড়িয়েছে ৬ উইকেটে ২২৩ রান, ফলে তাদের মোট লিড দাঁড়িয়েছে ৩২৯ রানের।
প্রথম ইনিংসের লড়াই শেষে ১০৬ রানের প্রয়োজনীয় লিড নিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে তাদের সূচনাটা খুব একটা সুবিধাজনক ছিল না। দলীয় ৩১ রানের মাথায় উদ্বোধনী জুটি ভেঙে যায়। এর কিছুক্ষণ পরেই প্যাভিলিয়নে ফিরে যান মুমিনুল হক। এমনকি প্রথম ইনিংসে চমৎকার ব্যাটিং করা তানজিদ হাসান তামিমও এই দফায় বেশি সময় উইকেটে টিকে থাকতে পারেননি।
ব্যক্তিগত স্কোরের বিচারে, সাদমান ইসলাম ২২ বলের মুখোমুখি হয়ে ১৩ রান যোগ করেন। অন্যদিকে মুমিনুল হক ১৪ বল খেলে আউট হন মাত্র ৭ রানে। এছাড়া টি-টোয়েন্টির মেজাজে ব্যাট চালাতে থাকা ওপেনার তানজিদ তামিম ৩৮ বলে ৩১ রান করে সাজঘরে ফেরেন।
তবে চতুর্থ উইকেট জুটিতে প্রতিপক্ষ বোলারদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে খেলেন মুশফিকুর রহিম ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। এই দুই ব্যাটার মিলে ১৫৯ রানের একটি দুর্দান্ত ও কার্যকরী পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন, যা দলের লিডকে তিনশ ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। দুজনেই ব্যক্তিগত অর্ধশতক পূরণ করলেও আক্ষেপের বিষয় হলো-কেউই শতকের মাইলফলকে পৌঁছাতে পারেননি। মুশফিক ৮১ রান করে বিদায় নেন; ১৪৮ বলের এই দায়িত্বশীল ইনিংসটি ৯টি চার দিয়ে সাজানো ছিল।
অপরদিকে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বিদায় নেওয়ার পূর্বে দলীয় খাতায় যোগ করেন ৮২ রান। ১৯১ বল মোকাবিলা করে গড়া এই ধৈর্যশীল ইনিংসটিতে ছিল ৫টি চারের মার। শান্তর বিদায়ের পর আরও একটি উইকেটের পতন ঘটে। ৬ বল খেলে মাত্র ১ রান করে সাজঘরের পথ ধরেন হাসান মাহমুদ। তৃতীয় দিনের খেলা শেষে ৫ রানে লিটন দাস এবং শূন্য রানে মেহেদী হাসান মিরাজ অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন।
আফগানদের বোলিং আক্রমণে জিয়া উর রহমান ও ইয়ামিন আহমেদজাই সর্বাধিক ২টি করে উইকেট শিকার করেন। এছাড়া একটি করে উইকেটের দেখা পান মোহাম্মদ সেলিম এবং কায়েস আহমেদ।
