সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা এবং দেশের উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ ১০ তরুণ-তরুণীকে সম্মানিত করেছে জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল (জেসিআই) বাংলাদেশ।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেন হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত ‘টেন আউটস্ট্যান্ডিং ইয়াং পারসনস (টিওওয়াইপি) অব বাংলাদেশ ২০২৬’ গালা অনুষ্ঠানে তাদের এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
বায়োবিল্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের প্রেজেন্টিং স্পনসরশিপ এবং রিদমের সহযোগিতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী তরুণদের অবদান, অদম্য মনোবল ও নেতৃত্বের গুণাবলি উদ্যাপন করা হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নির্মাণে তরুণদের ভূমিকা ও সম্ভাবনাকে তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি, আমন্ত্রিত ব্যক্তিবর্গ এবং জেসিআই বাংলাদেশের সদস্যরা অংশ নেন।
জেসিআই বাংলাদেশের ২০২৬ সালের ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট আরেফিন রাফি আহমেদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি ও পুরস্কারপ্রাপ্তদের স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানের উপদেষ্টা এরফান হক এবং ইভেন্ট ডিরেক্টর শেখ মতিউর রহমান ও জাফির শাফি আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখা তরুণদের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি নেতৃত্ব, সাফল্য ও সমাজে ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
এ বছর টিওওয়াইপি বাংলাদেশ ২০২৬ পুরস্কার পেয়েছেন ১০ জন তরুণ-তরুণী। মানবিক নেতৃত্বে অসামান্য অবদানের জন্য পুরস্কার পেয়েছেন ডা. সুনসিলা জাবরিন প্রিয়াঙ্কা, এমপি। নৈতিক নেতৃত্বে অবদানের জন্য সম্মানিত হয়েছেন মোহাম্মদ মহসিন এবং সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য পুরস্কার পেয়েছেন সামানজার সাঈদ। ব্যবসায়িক সাফল্যে অবদানের স্বীকৃতি পেয়েছেন আমিদ সাকিফ খান এবং একাডেমিক নেতৃত্বে অবদানের জন্য সম্মানিত হয়েছেন লিসা সাহা।
এ ছাড়া উদ্যোক্তা হিসেবে অসামান্য সাফল্যের জন্য পুরস্কার পেয়েছেন কাজী আশিকুর রাসুল। স্বেচ্ছাসেবামূলক নেতৃত্বে অবদানের জন্য সম্মানিত হয়েছেন মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম এবং ক্রীড়াক্ষেত্রে অবদানের জন্য পুরস্কার পেয়েছেন আফেইদা খন্দকার। অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদানের জন্য সম্মানিত হয়েছেন মো. রাসেল বিন আহাদ এবং ব্যক্তিগত সাফল্যের স্বীকৃতি পেয়েছেন আফসান আরা বিন্দু।
অনুষ্ঠানের সিলভার স্পনসর ছিল স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, কার্টিভেল, মিউচুয়াল লজিস্টিকস সলিউশন, ইংলিশ থেরাপি, সেভেন সিজ শিপিং লাইনস, ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটাল এবং রেড কার্পেট। এ ছাড়া ক্রিয়েটিভ পার্টনার হিসেবে ছিল সিঙ্গুলারিটি লিমিটেড, কফি পার্টনার ক্রিমসন কাপ, গিফট পার্টনার ক্রাফটিমান, রিফ্রেশমেন্ট পার্টনার জেফির ও ল্যামবার্ট এবং ফ্যাশন পার্টনার হারমিজন।
জেসিআই বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সংগঠন জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনালের (জেসিআই) একটি অংশ। এটি একটি বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক, যা নেতৃত্বের বিকাশ, সামাজিক সম্পৃক্ততা ও সক্রিয় নাগরিকত্বের মাধ্যমে তরুণদের ইতিবাচক পরিবর্তন সৃষ্টিতে সক্ষম করে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে।
