Published on
:
2 min read
বৃষ্টিতে রাস্তা পিচ্ছিল, রঙের জন্য অসুবিধা নাকি বাইক আরোহী ভিডিয়ো (রিলস) বানাচ্ছিলেন— চিংড়িঘাটা ফ্লাইওভারে একের পর এক বাইকে পড়ে যাওয়ার কারণ কী? বৃহস্পতিবার পর্যন্ত উত্তর অমিল। কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয়কুমার নন্দা জানালেন, ফ্লাইওভারে কয়েকজন মোবাইলে রিল বানাচ্ছিলেন, সেই কারণেও দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমরা যে খবর পেয়েছি, ওখানে কিছু ভিডিয়ো বানানোর চেষ্টা হচ্ছিল। গাড়ি চালাতে চালাতে রিল/ভিডিয়ো বানানো হয়। এই কারণের জন্যেও বাইক নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে যেতে পারে।’
বুধবারের ঘটনার পরে চিংড়িঘাটা ফ্লাইওভারের ওই অংশে রোড স্টাডস বসানো হয়েছে। কমিশনার জানান, ওই জায়গায় গো স্লো লাগানো হয়েছে। তবে রঙের জন্যেই বাইক স্কিড করেছে কি না, সে বিষয়টি প্রামাণ্য নয় বলে জানান তিনি। কমিশনার বলেন, ‘উড়ালপুলের ওই জায়গায় একটা বাঁক আছে। এই ধরনের বাঁকে দ্রুত গতিতে গাড়ি গেলে অনেক সময় গাড়ি স্কিড করে। সেই কারণেই ওই জায়গায় গাড়ির গতি কমানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
আগামী দিনে বৃষ্টি হলে এই ফ্লাইওভার দিয়ে বাইক চলাচল বন্ধ করা হতে পারে বলেও জানান কমিশনার। যাত্রীদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই বৃষ্টি হলে ফ্লাইওভার দিতে বাইক চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। তবে এই অসুবিধা গড়িয়াহাট ফ্লাইওভারের ক্ষেত্রে নেই, শার্প বেন্ড (ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক) নেই বলে এই অসুবিধা হওয়ার কথা নয় বলে জানান তিনি।
ফ্লাইওভারে রং লাগানোর কারণেই এই দুর্ঘটনা– এই সম্ভাবনা অনেকটাই উড়িয়ে দিয়েছেন কমিশনার। তাঁর কথায়, ‘রঙের জন্যেই বাইক পড়ে গিয়েছে এটা নিশ্চিত ভাবে বলা যাবে না। যাঁরা পেইন্ট করেছেন, ইঞ্জিনিয়াররা জানিয়েছেন, ওখানে অ্যান্টি-স্কিড পেইন্ট লাগানো হয়েছিল। তাই সরাসরি বলা যাবে না, রঙের কারণেই এটা হয়েছে।’
বিষয়টি নিয়ে এ দিন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ‘বাংলার সাধারণ মানুষের কথাই আমাদের কাছে শেষ কথা। বৃষ্টি বা অন্য কোনও কারণে এই সৌন্দর্যায়নের কাজ মানুষের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করছে বলে নাগরিকরা জানালে, তাঁদের মতামত ও অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়ে আমরা তা খতিয়ে দেখব এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব। শহরকে সুন্দর করে তোলার পাশাপাশি মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।’
