বাংলাদেশ থেকে দক্ষ কর্মী বৈধ পথে ইতালিতে পাঠানোর লক্ষ্যে আগামী নভেম্বরে ঢাকায় বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করতে যাচ্ছে ইতালি দূতাবাস। এ কর্মসূচিতে ইতালীয় ভাষা, দেশটির নাগরিক সংস্কৃতি ও সামাজিক রীতিনীতি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক ও কারিগরি দক্ষতার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্নকারীদের জন্য ইতালিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ তথ্য জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্টোনিও আলেসান্দ্রো।
সাক্ষাৎকালে ইতালির রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ থেকে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কর্মী নেওয়ার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত কর্মসূচির রূপরেখা তুলে ধরেন। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি পাঠানো এবং তৃতীয় ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব বিবেচনায় এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ইতালির এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি পাঠানো এবং দেশের তরুণদের তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ নিশ্চিত করা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অগ্রাধিকারগুলোর অন্যতম।
এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি হবে এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সাক্ষাৎকালে বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেন ইতালির রাষ্ট্রদূত। দুই দেশের অংশীদারত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বিভিন্ন সমস্যা, চ্যালেঞ্জ ও নতুন সম্ভাবনা মোকাবিলায় বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ এবং ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের অবদানের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। বর্তমানে প্রায় আড়াই লাখ বাংলাদেশি ইতালিতে বসবাস করছেন এবং তাঁদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া অনিয়মিত অভিবাসনের পথ পরিহার করে বৈধ অভিবাসনের সুযোগ বাড়ানো এবং বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ইতালির ভিসা প্রাপ্তির সংখ্যা ও প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে ঢাকায় ইতালি দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন ফেদেরিকো জাম্পারেলি উপস্থিত ছিলেন।
