জুড়ীতে বিদ্যুতের খোলা তারে প্রাণ যাচ্ছে লজ্জাবতী বানরের, নির্বিকার বিদ্যুৎ বিভাগ
মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার কচুরগুল গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একটি লজ্জাবতী বানরের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে গ্রামের আব্দুস সুবহান মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে একই স্থানে আরও দুটি বানরের মৃত্যু হয়েছিল। এ নিয়ে ওই স্থানে মোট তিনটি লজ্জাবতী বানরের মৃত্যু হলো।
আব্দুস সুবহান মিয়া জানান, তাঁর বাড়ির একই স্থানে এর আগেও দুটি লজ্জাবতী বানরের মৃত্যু হয়েছে। এবার আরও একটি বানরের মৃত্যু হওয়ায় বিষয়টি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
পরিবেশকর্মী আবিদ হোসাইন বলেন, একই স্থানে বারবার লজ্জাবতী বানরের মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও বিদ্যুৎ বিভাগের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। বিদ্যুতের খোলা তার এসব বন্য প্রাণীর জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে এ প্রজাতির অস্তিত্ব আরও হুমকির মুখে পড়তে পারে।
লাঠিটিলা বন বিট কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. সাজন আহমদ বলেন, “বানরটি যে স্থানে মারা গেছে, সেটি আমাদের সংরক্ষিত বনের বাইরে। একই স্থানে পরপর তিনটি বানরের মৃত্যু হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। এর আগে আমি বিষয়টি অবগত ছিলাম না। এ ব্যাপারে বিদ্যুৎ বিভাগকে চিঠি দিয়ে অবহিত করব এবং দ্রুত সমস্যা সমাধানের জন্য অনুরোধ জানাব।”
লজ্জাবতী বানর (Nycticebus bengalensis) বাংলাদেশের একটি বিপন্ন বন্য প্রাণী। দেশের সিলেটসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মিশ্র চিরসবুজ বনাঞ্চলে এদের বিচরণ রয়েছে। এরা নিশাচর প্রাণী; সাধারণত গাছের ডালে বসবাস করে এবং রাতে খাবারের সন্ধানে বের হয়। বন উজাড়, আবাসস্থল ধ্বংস, শিকার ও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার মতো বিভিন্ন কারণে এদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে রয়েছে।
পরিবেশসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, বনসংলগ্ন এলাকায় বিদ্যুতের তারের ঝুঁকি কমাতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। কচুরগুলে একই স্থানে তিনটি লজ্জাবতী বানরের মৃত্যুর ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ লাইনে প্রয়োজনীয় সুরক্ষাব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।