চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে করা চুক্তিতে দেশের স্বার্থ ক্ষুণœ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টি। চুক্তির আর্থিক কাঠামো, বিনিয়োগ, কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ও বিদেশি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ছয়টি প্রশ্ন তুলে চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
গতকাল সোমবার রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশে সংগঠনটির আহ্বায়ক মুহম্মদ জিয়াউল হক, সদস্য সচিব শাহাদাত ফরাজী সাকিব ও মুখপাত্র মুহিউদ্দিন রাহাতের পক্ষে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে এসব দাবি জানানো হয়। গত ৮ অক্টোবর ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তিটি করে সরকার।
স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টির প্রশ্ন, সরকার ডিপি ওয়ার্ল্ডকে অপারেটর হিসেবে উপস্থাপন করলেও প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী চুক্তিটি কনসেশনভিত্তিক। এতে প্রতিষ্ঠানটি কী ধরনের অধিকার ও নিয়ন্ত্রণ পাচ্ছে, তা স্পষ্ট করতে হবে।
সংগঠনটির দাবি, এনসিটির অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতিতে কয়েক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের। অথচ ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছ থেকে এককালীন প্রায় ৬০০ কোটি টাকা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ অর্থ নির্ধারণের ভিত্তি কী, তা জানতে চেয়েছে তারা।
বক্তব্যে বলা হয়, ডিপি ওয়ার্ল্ড আগামী ১০ বছরে এনসিটির আধুনিকায়নে এক হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অন্যদিকে সংগঠনটির দাবি, দেশীয় ব্যবস্থাপনায় এনসিটি এক বছরেই কনটেইনার হ্যান্ডলিং থেকে প্রায় এক হাজার ৮০০ কোটি টাকা নিট আয় করছে। সেই হিসাবে ১০ বছরে সম্ভাব্য নিট আয় প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা। তাহলে দেশীয় ব্যবস্থাপনায় আয় দিয়েই টার্মিনাল আধুনিকায়ন করা হলো না কেনÑ সেই প্রশ্ন তুলেছে সংগঠনটি।
কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে তারা। সংগঠনটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশীয় ব্যবস্থাপনায় এনসিটিতে ১৩ লাখ ৮৫ হাজার টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। অথচ ডিপি ওয়ার্ল্ডের জন্য বছরে ন্যূনতম লক্ষ্যমাত্রা ১২ লাখ ৩০ হাজার টিইইউ। বিদেশি ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বাড়ার কথা বলা হলেও লক্ষ্যমাত্রা কম কেন, তা জানতে চেয়েছে স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টি।
সংগঠনটির প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, দেশীয় ব্যবস্থাপনার তুলনায় নতুন চুক্তিতে বছরে প্রায় ৯৫ দশমিক ছয় মিলিয়ন ডলার বা এক হাজার ১৮০ কোটি টাকার সম্ভাব্য রাজস্ব পার্থক্য তৈরি হতে পারে। তবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ আর্থিক কাঠামো প্রকাশিত না হওয়ায় হিসাবটি প্রাথমিক বলে উল্লেখ করেছে তারা। সরকারের কাছে চুক্তির বিস্তারিত আর্থিক তথ্য প্রকাশের দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিদেশি বিনিয়োগে আপত্তি না থাকলেও এনসিটির শতভাগ নিয়ন্ত্রণ বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার বিরোধিতা করেছে স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টি। তাদের মতে, সিঙ্গাপুর ও ভিয়েতনামের মতো দেশীয় নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে যৌথ অংশীদারিত্বের মডেল অনুসরণ করা যেত। বর্তমান ব্যবস্থায় দেশীয় প্রতিষ্ঠান, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও প্রযুক্তি স্থানান্তর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সংগঠনটি আরও বলেছে, চুক্তির অর্থনৈতিক দিকের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের ঝুঁকিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে করা চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টি।