ভারতের উত্তরাখণ্ডে তরুণী অঙ্কিতা ভান্ডারী হত্যা মামলায় বিতর্কিত নিয়োগের প্রতিবাদে রাজধানী নয়াদিল্লির ইন্ডিয়া গেটে অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস সংসদ সদস্য প্রিয়ঙ্কা গান্ধী । বুধবার সন্ধ্যায় নিহত অঙ্কিতার বাবা-মায়ের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে তাদের প্রতিবাদে অংশ নেন দুই কংগ্রেস নেতা।
বিজ্ঞাপন
অঙ্কিতা হত্যা মামলার সঙ্গে বিজেপির সাবেক নেতা দুষ্মন্ত গৌতমের যোগসূত্র রয়েছে বলে অভিযোগ করে আসছে তার পরিবার। সম্প্রতি দুষ্মন্তকে সিকিমের রাজ্যপাল হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর থেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অঙ্কিতার বাবা-মা। এই নিয়োগের প্রতিবাদে তারা ইন্ডিয়া গেটের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুষ্মন্তের নিয়োগের খবর সামনে আসার পর মঙ্গলবার রাহুল গান্ধীর দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন অঙ্কিতার বাবা-মা। পরদিন বুধবার তারা ইন্ডিয়া গেটে প্রতিবাদে বসেন। সন্ধ্যায় সেখানে উপস্থিত হয়ে তাদের সঙ্গে সংহতি জানান রাহুল ও প্রিয়ঙ্কা। এ সময় তারা শোকাহত দম্পতির পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
কী ঘটেছিল অঙ্কিতার সঙ্গে?
২০২২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর উত্তরাখণ্ডের ঋষিকেশের একটি রিসোর্টে কর্মরত ১৯ বছর বয়সী অঙ্কিতা ভান্ডারীকে হত্যার ঘটনা ঘটে। রিসেপশনিস্ট হিসেবে কাজে যোগ দেওয়ার প্রায় ২০ দিন পর নিখোঁজ হন তিনি। নিখোঁজ হওয়ার ছয় দিন পর একটি খাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
অভিযোগ রয়েছে, রিসোর্টে আসা এক ‘ভিআইপি’ অতিথির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে অঙ্কিতার ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তার পরিবার। তবে ওই ‘ভিআইপি’ ব্যক্তির পরিচয় ও এ ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। ঋষিকেশের ওই রিসোর্টের ব্যবস্থাপক ছিলেন বিজেপির সাবেক নেতা বিনোদ আর্যের ছেলে পুলকিত আর্য। অঙ্কিতা হত্যা মামলায় অভিযুক্ত পুলকিত কারাগারে রয়েছেন।
দুষ্মন্তের নিয়োগ নিয়ে কেন ক্ষোভ?
বিজেপির সাবেক সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এবং দলটির তফসিলি জাতি মোর্চার সাবেক সভাপতি দুষ্মন্ত গৌতমের বিরুদ্ধে অঙ্কিতার পরিবারের অভিযোগ, মামলায় আলোচিত সেই ‘ভিআইপি’ ব্যক্তি তিনিই। তাদের দাবি, অঙ্কিতাকে যার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়েছিল, সেই ব্যক্তি দুষ্মন্ত।
এ অভিযোগের ভিত্তিতে কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলোও অতীতে দুষ্মন্তের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—এমন তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
সম্প্রতি দুষ্মন্তকে সিকিমের রাজ্যপাল হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর অঙ্কিতার পরিবারের ক্ষোভ আরও বেড়েছে। তাদের প্রশ্ন, যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, তাকে কেন সাংবিধানিক পদে নিয়োগ দেওয়া হলো?
অঙ্কিতার বাবা-মায়ের দাবি, তাদের মেয়ের হত্যার ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সবার ভূমিকা স্পষ্ট করতে হবে। দুষ্মন্তের নিয়োগ ঘিরে নতুন করে শুরু হওয়া এই প্রতিবাদে রাহুল ও প্রিয়ঙ্কার অংশগ্রহণ ঘটনাটিকে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনেও আবার আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
সূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন
এআরবি
