জামায়াতে ইসলামীর আমিরের ব্যবহৃত ডিভাইস তদন্ত সংস্থাকে না দেওয়ার পেছনে বড় ধরনের অপরাধ লুকানোর বিষয় থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন।
‘জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকড: ডিবি চায় ডিভাইস, জামায়াতের উদ্বেগ নিরাপত্তায়’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন যুক্ত করে তিনি এ মন্তব্য করেন।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে জামায়াত আমিরকে উদ্দেশ করে রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘যে নেতা নাকি জীবনে কোনোদিন মিথ্যা বলে নাই, সেই নেতা কেনো এতো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে? তাহলে কি কর্মজীবী নারীদের কটূক্তি করার বিষয়টি সত্য?
তিনি আরও লেখেন, ‘নাকি মোবাইল হেফাজতে নিলে আরও বড় ধরনের ক্রাইম বের হয়ে আসবে? নাকি শেখ হাসিনার সাথে তার নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য সঠিক? ডিভাইস না দেওয়ার পেছনে অবশ্যই বড় ধরনের কোনো অপরাধ লুকানোর বিষয় আছে।’
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকের অভিযোগ ওঠার পর আট মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তের জন্য তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনসহ সংশ্লিষ্ট ডিভাইস চেয়ে বাদীপক্ষকে অন্তত তিনবার চিঠি দিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ডিভাইসগুলো জব্দ করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য আদালতের অনুমতিও নেওয়া হয়েছে। তবে এখনো সেগুলো তদন্ত সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হয়নি।
এর আগে, চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে ইংরেজিতে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। ওই পোস্টের একটি অংশে লেখা ছিল, ‘আমরা বিশ্বাস করি, যখন নারীদের আধুনিকতার নামে ঘর থেকে বের করা হয়, তখন তারা শোষণ, নৈতিক অবক্ষয় এবং নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হন। এটি অন্য কিছু নয়; বরং পতিতাবৃত্তির অন্য একটি রূপ।’
পোস্টটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে রাজপথেও বিক্ষোভ হয়। বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, জামায়াত আমির কর্মজীবী নারীদের চরম অবমাননা করেছেন।
পরে জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সরকারি ইমেইল ব্যবহার করে আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছিল এবং ওই পোস্টটি সেখান থেকেই দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় প্রথমে সাধারণ ডায়েরি এবং পরে মামলা করা হয়। মামলায় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমসহ অজ্ঞাতনামা ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়। ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে ডিবি ছরওয়ারকে আটক করে। এ সময় তাঁর মুঠোফোন ও ল্যাপটপ জব্দ করা হয়। পরদিন তাঁকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর কথা জানায় ডিবি। তবে সেদিনই আদালত থেকে জামিন পান ছরওয়ার।
-20261024054447.jpg&w=1440&q=75)