সিলেটের ওসমানীনগর ও সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর থানার অন্তর্গত উত্তর কালনীরচর গ্রামে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ তুলে নিরাপত্তা চেয়েছেন গ্রামটির বাসিন্দা মো. শিবরুল আমীন ও মোবারক হুসেন মেন্দী। সোমবার (১২ অক্টোবর) সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন তারা।
লিখিত বক্তব্যে তাঁরা অভিযোগ করেন, লন্ডনপ্রবাসী আবদুল হক চানু মিয়ার মদদ ও অর্থায়নে একটি পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের হয়রানি করছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে জামিনে মুক্ত হয়েও অনেকে বাড়িতে ফিরতে পারছেন না।
লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, এর সূত্রপাত মূলত একটি মসজিদ নির্মাণকে কেন্দ্র করে। গ্রামের প্রভাবশালী ও লন্ডন প্রবাসী আবদুল হক চানু মিয়া ও তার বাহিনী পবিত্র মসজিদ নির্মাণ ও উন্নয়নমূলক কাজে শুরু থেকেই নানাভাবে বাধা দিয়ে আসছিল। পরবর্তীতে জগন্নাথপুর থানার ওসির মধ্যস্থতায় কিছু শর্তসাপেক্ষে বিষয়টি মীমাংসা হলে মসজিদের কাজ পুনরায় শুরু হয়। কিন্তু ২০২৫ সালের ২ মার্চ প্রথম রমজানের দিবাগত রাতে সেই পুরনো ইস্যুকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে মসজিদের অজুখানার নির্মাণ কাজে বাধা দেয় এবং সেপটিক ট্যাংকি ভাঙতে আসলে গ্রামের সকল মুরব্বী থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার ও বয়সের মানুষ মসজিদের নির্মাণ কাজের পক্ষে অবস্থান নেন। এর জের ধরে লন্ডন প্রবাসী আবদুল হক চানু মিয়ার প্রত্যক্ষ মদদ ও অর্থায়নে তার বাহিনীর প্রধান ইয়াবর মিয়া, নুর মিয়া, সইল মিয়া, রুহেল মিয়া, কসরু মিয়া, সিজিল, হুসেন, খলকু মিতন ও হালিমসহ একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী এবং কিশোর গ্যাং কোনো প্রকার পূর্ব নোটিশ ছাড়াই কালনীরচর বাজার দখল করতে আসে এবং ব্যাপক ভাঙচুর করে। এ সময় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ মাত্র দুইদিনের সময় চাইলে তারা তা না মেনে আবারও ভাঙচুর শুরু করে। এক পর্যায়ে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, একই বছরের ৩১ মে মসজিদকে কেন্দ্র করে আবারও সংঘর্ষে একজন নিহত হন। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই রাতে বিভিন্ন বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এ ঘটনায় ওসমানীনগরের রেনু বেগম, হান্না বেগম, জুনাইদ মিয়া, আকাইদ মিয়া, ছালেহা বেগম, আক্তার মিয়া, লন্ডনপ্রবাসী হাজী বশির মিয়া, দুদু মিয়া, মত্তচির মিয়া, ফ্রান্সপ্রবাসী উবায়েদ মিয়া, লন্ডনপ্রবাসী আলফু মিয়া, বিলাল মিয়া ও তাঁর ভাইয়ের বাড়িঘরে ভাঙচুরের অভিযোগ করা হয়। জগন্নাথপুরের হাজী আব্দুল করিম, রুসনা বেগম, বাবুল মিয়া, বাদল মিয়া, গনি ও আব্দুর রবসহ অন্যদের বাড়িঘরেও হামলা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ তোলেন তাঁরা।
তারা বলেন, ঘটনার রাতে ওসমানীনগর থানায় বারবার সহায়তা চেয়েও কার্যকর প্রতিকার পাননি। এক পক্ষের মামলা গ্রহণ করা হলেও তাঁদের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি। পরে আদালতের দ্বারস্থ হন তাঁরা। তাঁদের আরও অভিযোগ, বাজারসংলগ্ন একটি বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের পর নুর মিয়া সেটি দখলে রেখেছেন। জমির মালিকানা নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান থাকলেও বাড়িটি উদ্ধারে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই। এ ছাড়া আবদুল হক চানু মিয়ার বিরুদ্ধে কিশোর গ্যাংকে অর্থায়ন এবং ইয়াবর মিয়ার বিরুদ্ধে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ করেন তাঁরা।
২০১৭ সালে উত্তর কালনিরচর ও দক্ষিণ কালনীরচরে ইয়াবরের ষড়যন্ত্রে দুইটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে অভিযোগ করে তারা বলেন, এই হত্যা মামলায় ইয়াবর এফআইআরভুক্ত আসামি ছিল। তখন আওয়ামী লীগের সেজে চার্জশিট থেকে কৌশলে তার নাম প্রত্যাহার করিয়ে নেয়। ইয়াবর যখন যে দল ক্ষমতায় যায়, সে এই দলের অনুসারী হয়ে এলাকায় বিভিন্ন রকম লুটতরাজ, দাঙ্গা-হাঙ্গামা, খুন, ডাকাতি, চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটায় বলে অভিযোগ করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে উত্তর কালনীরচরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা, গ্রামছাড়া বাসিন্দাদের নিরাপদে ফেরানো, ক্ষতিগ্রস্ত দোকানপাট চালু করা এবং দখল হওয়া বাড়ি প্রকৃত মালিকদের ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে ইয়াবর মিয়া, নুর মিয়া ও আবদুল হক চানু মিয়াসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপি, সিলেট ও সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা।
শেয়ার করুন

