রাজধানীর গেন্ডারিয়ার ঘুন্টিঘর রেলস্টেশন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে অন্তত ১৪ জনকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) ও এসআরবি-১০। ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনের অভিযোগের পর সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো-দক্ষিণের উপপরিচালক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল অভিযানে অংশ নেয়। ঘুন্টিঘর রেলস্টেশন, মুন্সিরটেকসহ মাদকপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
ইশরাকের সমালোচনার পর অভিযান
সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মাদকবিরোধী কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা করেন ইশরাক হোসেন। এর পরপরই গেন্ডারিয়ার ঘুন্টিঘর এলাকায় অভিযান শুরু করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
এর আগে গত শনিবার গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে নিজের অস্ত্র প্রদর্শন করেন ইশরাক। এ ঘটনা নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
দীর্ঘদিন ধরে মাদক কেনাবেচার অভিযোগ
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গেন্ডারিয়ার ঘুন্টিঘর রেলস্টেশন এলাকা দীর্ঘদিন ধরে মাদক কেনাবেচা ও সেবনের স্থান হিসেবে পরিচিত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালালেও অভিযান শেষে সেখানে আবারও মাদকসেবী ও কারবারিদের উপস্থিতি দেখা যায়।
সম্প্রতি ওই এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক পরিদর্শককে গুলি করার ঘটনা ঘটে। এরপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একাধিক অভিযান চালায়। তবে এসব পদক্ষেপের পরও এলাকায় মাদক কেনাবেচা পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এ নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনের কাছে অভিযোগ আসছিল। এর ধারাবাহিকতায় তিনি গত শনিবার ওই এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে যান। সেখানে তার অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা পরে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
অভিযান চালিয়েও নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ
সোমবারের অভিযানে অংশ নেওয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, ঘুন্টিঘর রেলস্টেশন, মুন্সিরটেকসহ বিভিন্ন মাদকপ্রবণ এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অভিযানে মামলা করার পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতও পরিচালনা করা হয়।
তবে অভিযান চালিয়েও এলাকাগুলো পুরোপুরি মাদকমুক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান তিনি।
ওই কর্মকর্তার ভাষ্য, এসব এলাকায় মাদকসেবী ও কারবারিদের অনেকে ভাসমান। তারা বিভিন্ন সময়ে সেখানে এসে মাদক কেনাবেচা বা সেবন করে চলে যায়। অভিযানের সময় যাদের পাওয়া যায়, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান শেষে চলে গেলে আবারও অনেকে সেখানে ফিরে আসে।
তিনি আরও জানান, রেলস্টেশনসংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা যায়। সীমিত জনবল দিয়ে একসঙ্গে অনেক এলাকা নজরদারিতে রাখতে হয়। ফলে একটি এলাকায় অভিযান চালানোর পর অন্য এলাকায় দায়িত্ব পালন করতে গেলে আগের এলাকায় আবারও মাদকসেবী ও কারবারিদের আনাগোনা বাড়তে পারে।
স্থায়ী নজরদারির অভাব
ঘুন্টিঘর এলাকায় স্থায়ীভাবে নজরদারি নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত জনবল না থাকাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ওই কর্মকর্তা। তার মতে, কোনো এলাকায় নিয়মিত নজরদারি বজায় রাখা সম্ভব হলে মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে।
এদিকে সোমবারের অভিযানে আটক ১৪ জনের পরিচয়, তাদের কাছ থেকে কী পরিমাণ মাদক উদ্ধার হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
The post ইশরাকের অভিযোগের পর ঘুন্টিঘরে অভিযান, আটক ১৪ appeared first on SATV.
