রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালিতে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গোলাগুলি এবং প্রায় দুই হাজার পর্যটক আটকে পড়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। ভুয়া গোয়েন্দা তথ্যের পেছনে না ছুটে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে শফিকুর রহমান লেখেন, ‘রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেককে কেন্দ্র করে কী হচ্ছে? ভুয়া গোয়েন্দা তথ্যের পেছনে না দৌড়িয়ে সঠিক গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।’
সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘সাধারণ নাগরিকদের জীবন নিয়ে তামাশা করার অধিকার কারও নেই। সময় থাকতে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।’
এর আগে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাজেকের উজো বাজার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলি শুরু হয়। সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের কারণে সেখানে প্রায় দুই হাজার পর্যটক আটকা পড়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার সকালে সেনাবাহিনী ও পুলিশের পাহারায় আটকে পড়া পর্যটকদের খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা করানো হলে উজো বাজার এলাকায় অবরোধকারীদের বাধার মুখে পড়ে তাঁদের বহর। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী লাঠিচার্জ করে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করলে বেলা ১১টার দিকে পর্যটকবাহী গাড়িবহর উজো বাজার এলাকা ত্যাগ করে। তবে এর প্রায় আধা ঘণ্টা পর ওই এলাকায় দফায় দফায় গোলাগুলি শুরু হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত গোলাগুলি চলছিল।
রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব গোলাগুলির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে।
নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে বুধবার সন্ধ্যা থেকেই সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র অনির্দিষ্টকালের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। পর্যটকদের বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার মধ্যে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। বারবার সড়ক অবরোধ ও পর্যটনকেন্দ্র বন্ধের ঘটনায় সাজেকের পর্যটন ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা ভোগান্তির পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
এমএম/
