সঠিক নিয়ম না মেনে এসি চালালে বিদ্যুৎ বিল কয়েক গুণ বাড়তে পারে, বাড়তে পারে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিও। ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে এসির কার্যকারিতা বাড়ানো, বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও নিরাপদ ব্যবহারের ছয়টি উপায় তুলে ধরা হয়েছে।
গরমে স্বস্তি পেতে অনেকেই এসি চালান। কিন্তু সঠিক নিয়ম না মানলে মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল কয়েক গুণ বাড়তে পারে। বৈদ্যুতিক সংযোগে ত্রুটি কিংবা নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা ছয়টি উপায় নিচে দেওয়া হলো।
১. নিয়মিত সার্ভিসিং করান
ফিল্টারে ধুলা জমলে বা কয়েল ময়লা হলে বাতাস চলাচলে বাধা তৈরি হতে পারে। এতে এসির কার্যকারিতা কমে যায় এবং যন্ত্রটির ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। তাই গরমের মৌসুম শুরুর আগেই এসি সার্ভিসিং করানো ভালো।
এসির জন্য উপযুক্ত বৈদ্যুতিক সংযোগ ব্যবহার করতে হবে। ফ্রিজ, মাইক্রোওয়েভ বা অন্য উচ্চক্ষমতার যন্ত্রের সঙ্গে একই এক্সটেনশন কর্ডে এসি লাগানো এড়িয়ে চলতে হবে। সঠিক আর্থিং ও উপযুক্ত সার্কিট ব্রেকার আছে কি না, তা নিশ্চিত করাও জরুরি।
২. এসির তাপমাত্রা কত রাখবেন?
ঘর দ্রুত ঠান্ডা করতে অনেকে এসির তাপমাত্রা ১৬ থেকে ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামিয়ে রাখেন। এতে ঘর দ্রুত ঠান্ডা হয় না; বরং এসিকে দীর্ঘ সময় বেশি কাজ করতে হতে পারে।
ব্যুরো অব এনার্জি এফিশিয়েন্সির (বিইই) সুপারিশ উল্লেখ করে তাপমাত্রা ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে আরামদায়ক পরিবেশের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়েও সুবিধা হতে পারে। তবে ঘরের আকার, বাইরের তাপমাত্রা, এসির ধরন ও ব্যবহারের সময়ের ওপর বিদ্যুৎ খরচ নির্ভর করে। তাই তাপমাত্রা এক ডিগ্রি কমালেই সবার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট হারে বিদ্যুৎ খরচ বাড়বে, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
৩. এসির সঙ্গে ফ্যান চালান
এসি চালানোর সময় অনেকে সিলিং ফ্যান বন্ধ রাখেন। কিন্তু কম গতিতে ফ্যান চালালে ঘরের ঠান্ডা বাতাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে ঘরের এক জায়গা অতিরিক্ত ঠান্ডা ও অন্য জায়গা গরম থাকার প্রবণতা কমে। ফলে এসির তাপমাত্রা অযথা কমিয়ে রাখার প্রয়োজনও কমতে পারে। তবে ফ্যানও বিদ্যুৎ খরচ করে, তাই প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করাই ভালো।
৪. দিনের বেলায় পর্দা টেনে রাখুন
জানালা দিয়ে সরাসরি সূর্যের আলো ঢুকলে ঘরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়, ফলে এসিকে বেশি সময় কাজ করতে হয়। এ সমস্যা কমাতে দিনের বেলায় রোদ পড়ে এমন জানালার পর্দা টেনে রাখা যেতে পারে। সম্ভব হলে তাপ প্রতিরোধী পর্দা বা উপযুক্ত রিফ্লেকটিভ উইন্ডো ফিল্ম ব্যবহার করা যায়। এসি চালানোর সময় দরজা-জানালা বন্ধ রাখাও জরুরি, যাতে বাইরের গরম বাতাস সহজে ঘরে ঢুকতে না পারে।
৫. এসি কেনার সময় এনার্জি রেটিং দেখুন
পুরোনো এসি অনেক সময় নতুন মডেলের তুলনায় বেশি বিদ্যুৎ খরচ করে। তাই নতুন এসি কেনার আগে শুধু দাম নয়, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের সক্ষমতাও বিবেচনায় রাখা উচিত।
ভারতে ব্যবহৃত স্টার রেটিং ব্যবস্থায় সাধারণত বেশি স্টারযুক্ত এসি তুলনামূলকভাবে বেশি বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী। তবে প্রকৃত সাশ্রয় নির্ভর করে মডেল, ধারণক্ষমতা, ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণের ওপর। বাংলাদেশে এসি কেনার সময়ও প্রযোজ্য জ্বালানি-দক্ষতার লেবেল এবং প্রস্তুতকারকের বিদ্যুৎ খরচের তথ্য যাচাই করা উচিত।
৬. টাইমার ও স্লিপ মোড ব্যবহার করুন
অনেকে রাতে সারা রাত একই তাপমাত্রায় এসি চালিয়ে রাখেন। এতে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বিদ্যুৎ খরচ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে স্লিপ মোড বা টাইমার কাজে আসতে পারে। অনেক এসিতে স্লিপ মোড চালু করলে রাতের দিকে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়ে। টাইমার ব্যবহার করে নির্দিষ্ট সময় পর এসি বন্ধ করার ব্যবস্থাও করা যায়। তবে সব এসির স্লিপ মোড একইভাবে কাজ করে না, তাই নিজের যন্ত্রের নির্দেশিকা দেখে ফিচারটি ব্যবহার করতে হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসি ব্যবহারে কিছু ছোট অভ্যাসই বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। নিয়মিত সার্ভিসিং, উপযুক্ত তাপমাত্রা, ফ্যানের সঠিক ব্যবহার, রোদ আটকানো ও টাইমারের মতো ফিচার কাজে লাগালে বিদ্যুৎ খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হতে পারে। বৈদ্যুতিক সংযোগে ত্রুটি দেখা দিলে নিজে মেরামতের চেষ্টা না করে দক্ষ টেকনিশিয়ানের সাহায্য নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
বিআলো/শিলি