জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ৯০ জন সংসদ সদস্যের মেধা ও যোগ্যতা একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সমান নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন।
রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। একই পোস্টে এনসিপির সঙ্গে বিএনপির আসন সমঝোতা, আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলমের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে এনসিপির কর্মসূচি নিয়েও বিভিন্ন মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন।
রাশেদ খাঁনের দাবি, পদত্যাগের আগের দিন রাতে আসিফ মাহমুদ বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় গিয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন। মাহফুজ আলমও বিএনপির প্রতীকে নির্বাচন করতে আগ্রহী ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। এ উদ্দেশ্যে তাঁরা বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বাসায় পর্যায়ক্রমে গিয়েছিলেন বলে পোস্টে উল্লেখ করেন রাশেদ খাঁন।
তাঁর ভাষ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো উপদেষ্টা বিএনপির প্রতীকে নির্বাচন করুক, তা দলটি চায়নি। বিএনপি আসিফ মাহমুদের প্রতি আগ্রহ না দেখানোয় তিনি বাধ্য হয়ে এনসিপিতে যোগ দেন বলেও দাবি করেন রাশেদ খাঁন। অন্যদিকে, বিএনপিতে নির্বাচনের সুযোগ না পেয়ে মাহফুজ আলম নিজের নৈতিক অবস্থান ধরে রেখেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আসিফ মাহমুদের এনসিপিতে অবস্থান প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন বলেন, গণঅভ্যুত্থানে সাহসী ভূমিকার কারণে নাহিদ ইসলামের পরই এনসিপিতে আসিফ মাহমুদের অবস্থান থাকার কথা ছিল। তবে অতীতের বিতর্ক ও দলটিতে যোগদানের বিষয়ে তাঁর দোদুল্যমান অবস্থানের কারণে তিনি বর্তমানে দলটির শীর্ষ ছয় নেতার মধ্যে সর্বশেষ অবস্থানে রয়েছেন বলে দাবি করেন রাশেদ খাঁন। এ প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদকে নিয়ে কটূক্তিও করেন তিনি।
এনসিপির সঙ্গে বিএনপির আসন সমঝোতা নিয়ে রাশেদ খাঁন দাবি করেন, বেশি আসন পাওয়ার আশায় এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা সালাহউদ্দিন আহমদের বাসায় গিয়ে বসে থাকতেন। তবে বিএনপি এনসিপিকে চারটির বেশি আসন ছাড়তে রাজি হয়নি। তাঁর দাবি, বেশি আসন ও নির্বাচনী খরচের সুবিধা পাওয়ার আশায় এনসিপি জামায়াতের জোটে গেছে।
এনসিপির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে কর্মসূচিকে ব্যর্থ আখ্যা দিয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, বিএনপি সরকারের মেয়াদের শেষ দিন পর্যন্ত আন্দোলন করলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ নিশ্চিত করার সক্ষমতা এনসিপির নেই। তাঁর ভাষ্য, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রাম, মেধা ও যোগ্যতার মাধ্যমে সালাহউদ্দিন আহমদ বর্তমান অবস্থানে পৌঁছেছেন।
পোস্টে রাশেদ খাঁন আরও মন্তব্য করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিএনপিকে চাপে রেখে বিশেষ সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে জামায়াত ও এনসিপি। তবে বিএনপি এ ধরনের সুবিধা বণ্টনের রাজনীতি করে না বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, বিএনপি রাষ্ট্র পুনর্গঠনের রাজনীতি করে।
