
বাংলাদেশ সচিবালয়। ফাইল ছবি
দেশের প্রশাসনিক হেড কোয়ার্টার বাংলাদেশ সচিবালয়কে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে স্থানান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বর্তমান সরকারের আমলেই এ কাজ শেষ করতে চায় তারা। ইতিমধ্যে স্থাপত্য অধিদপ্তর নতুন সচিবালয়ের তিনটি নকশাও চূড়ান্ত করেছে জাতীয় সংসদ ভবনের আদলে। সেটা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে উপস্থাপনও করা হয়েছে। গত বুধবারের এক সভায় এ ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভাপতিত্ব করেছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন সচিবালয় নির্মাণের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরির কাজ চলছে। গণপূর্ত অধিদপ্তর ইতিমধ্যে প্রস্তাবিত ভবনগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করে একটি প্রাথমিক লে-আউট প্রস্তুত করেছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানান, সচিবালয় স্থানান্তরের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পের নকশাও প্রধানমন্ত্রী দেখেছেন এবং এ বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন। সেসব পরামর্শ বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত নতুন সচিবালয় প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৪০৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল নির্ধারণের প্রাথমিক পরিকল্পনায় চলতি বছরের নভেম্বর থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় ধরা হয়েছে।
প্রকল্পটি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অননুমোদিত নতুন প্রকল্পের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এ জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে তিন বছরের মধ্যে কয়েকটি মন্ত্রণালয় নতুন সচিবালয়ে স্থানান্তরের লক্ষ্য রয়েছে। তবে সব ভবন নির্মাণ, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং দাপ্তরিক কার্যক্রম পুরোপুরি স্থানান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আরও সময় লাগতে পারে।
অন্যদিকে, বর্তমান সচিবালয় প্রাঙ্গণে পুরান ঢাকার নিম্ন আদালত স্থানান্তরের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর প্রশাসনিক ও বিচারিক অবকাঠামোয় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে।
এর আগে ২০১৫ সালে শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের পাশে বাণিজ্যমেলার মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। পরে সরকার সেই উদ্যোগ থেকে ফিরে আসে। বিদ্যমান সচিবালয়ের মধ্যেই একাধিক বহুতল ভবন তোলে বিগত সরকার।
কেএম
