চীনের তিব্বত অঞ্চলে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল তিব্বতের উত্তরাঞ্চলের নাগকু এলাকার একটি পাহাড়ি অঞ্চলে। শক্তিশালী এ কম্পনে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়েছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। ভূমিকম্পের কেন্দ্রের আশপাশের পাঁচ কিলোমিটার এলাকার গড় উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪ হাজার ৮৬৪ মিটার। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হওয়ায় সেখানে এর প্রভাব ও সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
প্রাসঙ্গিক সংবাদ
ভূমিকম্পটির কেন্দ্র তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। কম্পনটি স্থানীয় এলাকায় জোরালোভাবে অনুভূত হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত প্রাণহানি, আহত ব্যক্তির সংখ্যা কিংবা অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী তথ্যের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
তিব্বত ভৌগোলিকভাবে ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। হিমালয় পর্বতমালা ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভূত্বকের বিভিন্ন পাতের পারস্পরিক সংঘর্ষের কারণে এ অঞ্চলে ভূকম্পন ঘটে থাকে। বিশেষ করে ভারতীয় ভূত্বকীয় পাত উত্তর দিকে সরে ইউরেশীয় পাতের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়ায় হিমালয় অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তন ঘটছে। এ কারণে তিব্বত, নেপাল ও আশপাশের এলাকায় মাঝেমধ্যে শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঘটনা দেখা যায়।
এর আগে নেপালে হড়পা বান ও ভূমিধসের বিভিন্ন ঘটনার পর হিমালয় অঞ্চলের ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে এসব ঘটনার সঙ্গে তিব্বতের সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে বৈজ্ঞানিক তথ্য ও বিস্তারিত গবেষণা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর পরাঘাতের আশঙ্কা থাকতে পারে। এ ধরনের কম্পনে পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধস, পাথর ধসে পড়া এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তবে এসব ঝুঁকি বাস্তবে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করে ভূমিকম্পের অবস্থান, ভূপ্রকৃতি, আবহাওয়া ও স্থানীয় অবকাঠামোর ওপর।
এ অবস্থায় ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ, দুর্গম এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখা এবং সম্ভাব্য পরাঘাত সম্পর্কে সতর্ক থাকা জরুরি। তিব্বতের সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের প্রকৃত প্রভাব ও পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে এর মাত্রা ও ঝুঁকি আরও স্পষ্ট হবে।
-20261022162946.jpg&w=1440&q=75)