মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এমপিওভুক্ত সহকারী শিক্ষকদের উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্য নিরসনের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক নেতারা। এ জন্য স্কুল ও কলেজের এমপিও নীতিমালা-২০২৫ সংশোধন করে মাদ্রাসার এমপিও নীতিমালা-২০২৬-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। দাবি বাস্তবায়নে সরকারকে দুই মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন শিক্ষক নেতারা। এ সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনসহ পরবর্তী কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানায় ‘উচ্চতর গ্রেড বৈষম্য নিরসনপ্রত্যাশী মাধ্যমিক শিক্ষক উইং’। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক নেতারা বলেন, একই দেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষাব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষকদের উচ্চতর গ্রেড প্রদানের ক্ষেত্রে ভিন্ন নীতিমালা কার্যকর রয়েছে। এতে একই ধরনের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানভেদে শিক্ষকরা আর্থিক সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।
নীতিমালার দুই ধারায় বৈষম্যের অভিযোগ : শিক্ষক নেতাদের ভাষ্য, মাদ্রাসার এমপিও নীতিমালা-২০২৬-এর ১১.৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সহকারী শিক্ষকদের প্রথম উচ্চতর গ্রেড প্রদানের ক্ষেত্রে প্রথম এমপিওভুক্তির সময়কাল বিবেচনা করা হয়। অন্যদিকে স্কুল ও কলেজের এমপিও নীতিমালা-২০২৫-এর ১১.৭ অনুচ্ছেদে ভিন্ন শর্ত থাকায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা একই সুবিধা পাচ্ছেন না।
তাদের দাবি, নীতিমালার এই পার্থক্যের কারণে দীর্ঘদিন চাকরি করার পরও অনেক শিক্ষক প্রত্যাশিত আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই স্কুল ও কলেজের এমপিও নীতিমালার ১১.৭ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে মাদ্রাসার নীতিমালার ১১.৫ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
বিএড ডিগ্রিতেও সুবিধা পেতে বিলম্ব : উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে বিএড (ব্যাচেলর অব এডুকেশন) ডিগ্রির বিষয়টিও তুলে ধরেন শিক্ষক নেতারা। তাদের বক্তব্য, বিএড ডিগ্রি শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা ও পাঠদানের মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু উচ্চতর গ্রেড প্রদানের ক্ষেত্রে বিএড ডিগ্রি অর্জনের পরের সময়কে ভিত্তি ধরায় অনেক শিক্ষককে আর্থিক সুবিধা পেতে বিলম্বের মুখে পড়তে হচ্ছে।
শিক্ষক নেতাদের মতে, পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় এই ডিগ্রির কারণে আর্থিক সুবিধা পেতে বিলম্ব হওয়া শিক্ষকদের মধ্যে হতাশা তৈরি করছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে এমপিওভুক্তির তারিখ থেকে চাকরির অভিজ্ঞতা গণনা করে প্রথম উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
আগেও স্মারকলিপি, এবার দুই মাসের সময় : শিক্ষক নেতারা জানান, বৈষম্য নিরসনের দাবিতে গত ১২ আগস্ট, ৩ সেপ্টেম্বর ও ২৩ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন তারা। শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও শিক্ষামন্ত্রীর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কাছেও দাবি তুলে ধরেছেন। তবে তাদের দাবি অনুযায়ী, এখনও কার্যকর সমাধান হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত দাবির মধ্যে আরও রয়েছে— সব এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের জন্য উচ্চতর গ্রেডপ্রাপ্তিতে অভিন্ন ও ন্যায্য নীতিমালা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য ২০২৬ সালের নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত শুরু, পূর্ণাঙ্গ বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধি এবং আগামী ঈদুল ফিতরে পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা প্রদান।
