Published on
:
2 min read
এই সময়, আলিপুরদুয়ার: বনবস্তির ভিতরে দুর্গামণ্ডপে এটাই হয়তো শেষ পুজো। কারণ বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের কোর এলাকা থেকে জয়ন্তী বনবস্তি সরানোর সরকারি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে কয়েক মাস আগেই। ফলে ভাবা হয়েছিল, শেষ বারের পুজোটা বেশ জমকের সঙ্গেই করবেন জয়ন্তীর বনবাসীরা। কিন্তু বন দপ্তরের সঙ্গে তীব্র আকচাআকচির জেরে গত প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে ১০ দফা দাবি আদায়ে রাস্তায় আন্দোলন করছেন সেখানকার ১৮টি গ্রামসভার প্রতিনিধিরা। পর্যটনও বন্ধ সেই ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে। ফলে পুজোর তাল কেটেছিল আগেই। এ বার জয়ন্তীর আন্দোলনকারীরা সেই রাস্তাতেই আয়োজন করলেন দশভূজার পুজো। বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের রাজাভাতখাওয়া চেকপোস্টের সামনে যেখানে তাঁদের ধর্না চলছে, তার কাছেই একটি গাছের তলায় শিবলিঙ্গের পিছনে মা দুর্গার ছবি। শুক্রবার থেকে সেই ছবিকে সামনে রেখেই দুর্গাপুজো সারছেন বক্সার আন্দোলনকারীরা। রাজ্যের বনমন্ত্রী কথা দিয়েছিলেন, ১৫ অক্টোবর তিনি বক্সার বিক্ষুব্ধদের সঙ্গে কথা বলবেন। যদিও সেই আলোচনা এখনও হয়নি। বরং বনমন্ত্রীর সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলে রোজ পোস্ট হচ্ছে পরের পর পুজো উদ্বোধনের ভিডিয়ো। তবে শনিবার তিনি দাবি করেছেন, পুজো মিটলেই সমস্যা সমাধানে আলোচনা হবে।
দেবীপক্ষে পঞ্চমীর দিন ধর্নামঞ্চের একদিকে স্থাপন করা হয়েছিল মা দুর্গার ছবি। প্রাথমিক ভাবে ঠিক হয়েছিল, সেখানেই শাস্ত্র মেনে পুজো করা হবে দেবী দুর্গার। তবে যেহেতু মঞ্চে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ আন্দোলনে সামিল হয়েছেন, তাই সবার ধর্মীয় আবেগকে সম্মান দিয়ে উমাকে স্থাপন করা হয়েছে ধর্নামঞ্চ থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে শিবের থানে। সেখানেই বিনা আড়ম্বরে নিয়ম করে মায়ের পুজো করা হচ্ছে। কারণ কারণ আন্দোলন চালিয়ে যেতে যত টাকা দৈনিক খরচ হচ্ছে, তার পরে আর ধুমধাম করে দুর্গাপুজো করার মতো সামর্থ্য নেই জীবিকা হারানো মানুষগুলির।
এ দিকে জেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে বন দপ্তর — কোনও পক্ষই জয়ন্তীর বনবাসীদের আন্দোলন ও দাবিদাওয়া নিয়ে পদক্ষেপ করছেন না বলে অভিযোগ উঠছে। বাঘিনি এলেও থমকে আছে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের পর্যটন। তার মধ্যে আন্দোলনের খবর সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে ছড়িয়ে পড়ায় পর্যটকরা বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প নিয়ে আর আগ্রহই দেখাচ্ছেন না বলে অভিযোগ। জয়ন্তীর ভিতরে প্রাচীনকালে প্রতিষ্ঠিত মণ্ডপেও দুর্গাপুজোয় আড়ম্বরের লেশমাত্র নেই। জয়ন্তী গ্রামসভার সম্পাদক শুভজ্যোতি বসু বলছেন, ‘আমরা কী করব? দেওয়ালে পিঠ ঠেকে আছে। আমাদের প্রতি এই অবজ্ঞা আর অবহেলা কেন? তাই তো উমাকে রাজপথে নামতে বাধ্য করা হয়েছে। অসহায় হয়েই আমরা রাস্তায় পুজো করছি।’
তবে বনমন্ত্রী বলছেন, ‘জটিলতা কাটাতে কালচিনির বিধায়ক তথা রাজ্যের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পুজো মিটলেই আমরা আলোচনায় বসে সমস্যার স্থায়ী সমাধান করব।’ আর বিশাল লামার মন্তব্য, ‘আলোচনায় সব সমস্যা মেটে। বক্সার সমস্যার সমাধানও সেই পথেই আসবে বলে আমি আশাবাদী।’
