Published on
:
3 min read
এই সময়, হাওড়া: বুধবার দশমী থেকেই হাওড়া ও হুগলির বিভিন্ন গঙ্গার ঘাটে শুরু হয়েছে প্রতিমা নিরঞ্জন। পরিবেশ বিধি অনুযায়ী, প্রতিমা জলে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাঠামোগুলিকে ডাঙায় তুলে ফেলার কথা। তার জন্য দশমী থেকেই গঙ্গার ঘাটে লোকজন এবং ক্রেন নিয়ে হাজির থাকেন হাওড়া পুরসভার আধিকারিকরা। অভিযোগ উঠছে, প্রতিমা বিসর্জনের পর একদিন কেটে গেলেও হাওড়ার বিভিন্ন গঙ্গার ঘাটে এবং তার আশপাশে নদীর জলে এখনও অনেক কাঠামো ভাসতে দেখা যাচ্ছে। কোথাও আবার গঙ্গার পাড়ে জমে রয়েছে আবর্জনার স্তূপ। তা নিয়ে উদ্বিগ্ন পরিবেশকর্মীরা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে হাওড়ার রামকৃষ্ণপুর ঘাট-সহ একাধিক জায়গায় গঙ্গার জলে প্রতিমার কাঠামো পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। তবে শিবপুর এবং বাঁধাঘাটের ছবিটা কিছুটা হলেও ভালো। পরিবেশকর্মীদের আশঙ্কা, প্রতিমা নিরঞ্জনের পরে সঙ্গে সঙ্গে কাঠামোগুলি তুলে নিতে পারলে সেগুলোকে জলে পচে গিয়ে দূষণ ছড়াবে। তাতে গঙ্গার জলও দূষিত হবে।
একাধিক রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, সরাসরি গঙ্গায় প্রতিমা নিরঞ্জনের ফলে জলে দূষণের মাত্রা বেড়ে যায়। প্রতিমা তৈরির জন্য যে সব রং ব্যবহৃত হয়ে তার মধ্যে অনেক ক্ষতিকারক রাসায়নিক থাকে। প্রতিমার সাজসজ্জার জন্যও অনেক ধরনের উপকরণ লাগে। সেটাও নদীতে দূষণ ছড়ায়। এই সমস্যার মোকাবিলায় বিসর্জনের পরপরই দ্রুত প্রতিমার কাঠামো নদী থেকে তুলে নিতে বলেছে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ। তার জন্য হাওড়া পুরসভার তরফে প্রতি বছর দুর্গাপুজো ও কালীপুজোর সময় প্রচুর কর্মীকে নামানো হয়। নদী থেকে কাঠামো তোলার জন্য ঠিকাদার এজেন্সিকেও দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু এ বার হাওড়ার গঙ্গার পাড়ে বেশ কিছু জায়গায় বিসর্জনের পরে জলে কাঠামো পড়ে থাকতে দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবেশকর্মীরা। পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত বলেন, ‘এখনও গঙ্গার পাড়ে এবং নদীর জলে প্রতিমার কাঠামো পড়ে থাকার ঘটনা থেকেই বোঝা যায়, বিসর্জন ব্যবস্থাপনায় খামতি রয়েছে। তার কারণ, এঁদের অভিজ্ঞতা কম।’
হাওড়া পুরসভার এক শীর্ষ কর্তা অবশ্য জানিয়েছেন, গভীর রাত পর্যন্ত বিসর্জন চলায় কোথাও কোথাও দু’একটি কাঠামো হয়তো জলের ঢেউয়ে দূরে চলে গিয়ে থাকতে পারে। সেজন্যই বিষয়টি পুরকর্মীদের নজর এড়িয়ে গিয়েছে। সেগুলোকে যাতে দ্রুত সরিয়ে ফেলা যায়, তার জন্য নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে।
প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা মেনেই গত বুধবার থেকে চুঁচুড়ার ময়ূরপঙ্খীঘাট, জোড়াঘাট,অন্নপূর্ণাঘাট, চন্দননগরের রানিঘাট, শীতলাঘাট, বৈদ্যবাটির ছাতুগঞ্জের ঘাট, শ্রীরামপুরের দে–ঘাট, কলেজঘাট, রিষড়া ফাঁড়িঘাট, কোন্নগরের সাধুর ঘাট এবং উত্তরপাড়া দোলতলাঘাটে প্রতিমা নিরঞ্জন শুরু হয়েছে। সরকারি কর্তাদের দাবি, নিয়ম মেনেই ফুল, পাতা, মালা এবং অস্ত্র–সহ বিভিন্ন উপকরণকে আলাদা করার পরে প্রতিমাকে গঙ্গার জলে ফেলা হচ্ছে। প্রতিমা নিরঞ্জনের পরে পুরকর্মী এবং বিভিন্ন বারোয়ারি পুজো কমিটির স্বেচ্ছাসেবকরা সঙ্গে সঙ্গে গঙ্গা থেকে কাঠামো তুলে নিচ্ছেন। বেশ কয়েক বছর ধরে কোন্নগর পুরসভার উদ্যোগে সাধুর ঘাটে হোসপাইপ দিয়ে প্রতিমা গলানোর ব্যবস্থা চালু হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসন এ বার সেটা বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে পরিবেশকর্মী জয়ন্ত পাঁজা বলেন, ‘পরিবেশবান্ধব প্রতিমা বিসর্জনের জন্য অনেক বারোয়ারি পুজো কমিটি গত বার আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। কিন্তু প্রশাসন থেকে অনুমতি না মেলায় সেটা এ বার সম্ভব হয়নি।’
বিগত বছরের মতো এ বারেও বিসর্জনের সময় গঙ্গা ও পুকুরগুলিকে যাতে দূষণমুক্ত রাখা যায় তার জন্য উদ্যোগী হয়েছে শ্রীরামপুর পুরসভার। তাদের তরফে বারোয়ারি পুজোকমিটি গুলিকে লিখিত ভাবে অনুরোধ করা হয়েছে, প্রতিমা বিসর্জন দেওয়ার পরে যাতে তারা নিজেরা উদ্যোগী হয়ে দ্রুত জল থেকে প্রতিমার কাঠামো সরিয়ে নেয়। এই কাজে তাদেরকে সাহায্য করবে পুরসভার সাফাই বিভাগের কর্মীরা। সেই মতো ঠাকুরের ঘট, মাটির প্রদীপ, ফুল, বেলপাতা ফেলার জন্য গঙ্গার ঘাটে আলাদা ড্রাম রাখা হয়েছে। যে সব পুকুরে প্রতিমা ভাসান দেওয়া হয়, সেখানেও একই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে হুগলি জেলায় গঙ্গার ঘাট আপাতদৃষ্টিতে পরিষ্কার থাকলেও অনেক পুকুরে এখনও কাঠামো পড়ে আছে। বিভিন্ন পুজো কমিটির কর্তারা অবশ্য আশ্বাস দিয়েছেন, শনি ও রবিবার পুকুর থেকে কাঠামো তোলা হবে।
