গাজীপুরের টঙ্গীর চেরাগআলী এলাকায় ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আগুন লাগার প্রকৃত কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। কারখানা কর্তৃপক্ষের ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে ফায়ার সার্ভিস বলছে, তদন্তের পর জানা যাবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ। কারখানায় থাকা রাসায়নিক পদার্থ ও ভবনের অ্যালুমিনিয়াম প্যানেলের নিচে থাকা রাবারের কারণে আগুন দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয়। ফায়ার সার্ভিসের ২১টি ইউনিট, সেনাবাহিনী ও বিজিবির সমন্বিত প্রচেষ্টায় প্রায় চার ঘণ্টা পর বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সুলতানুল আফরীন জুনাইদ বলেন, “ওষুধ কোম্পানি হওয়ায় কারখানাটিতে অনেক রাসায়নিক পদার্থ ছিল। এ ছাড়া ভবনে ব্যবহৃত অ্যালুমিনিয়াম প্যানেলের নিচে প্রচুর রাবার ছিল। রাবার ও রাসায়নিক পদার্থ দাহ্য হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ভয়াবহ রূপ ধারণ করে।” তিনি আরও বলেন, আগুনের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে।
অন্যদিকে কারখানাটির সিনিয়র অ্যাডমিন ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা ধারণা করছি, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। আমাদের কারখানায় ফায়ার সেফটি প্ল্যান রয়েছে এবং রিজার্ভে সাড়ে সাত লাখ লিটার পানি সংরক্ষিত আছে। আমাদের কোনো ধরনের নিরাপত্তাঘাটতি নেই।” তিনি জানান, আগুনে কোনো প্রাণহানি না হলেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের সময় তখনো হয়নি।
বুধবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে কারখানার চারতলা শেফা ভবনের চতুর্থ তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। এ সময় কারখানায় প্রায় ১৫০ জন শ্রমিক কর্মরত ছিলেন। আগুনের খবর পেয়ে শ্রমিকেরা দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসেন। পরে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট প্রথমে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। আগুনের তীব্রতা বাড়লে গাজীপুরের বিভিন্ন স্টেশনসহ পূর্বাচল, মিরপুর ও উত্তরা থেকে আরও ইউনিট যোগ দেয়। পরে সেনাবাহিনীর কেমিক্যাল ইউনিট ও বিজিবির সদস্যরাও আগুন নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে অংশ নেন।
কারখানার শ্রমিকেরা জানান, আগুনের খবর পেয়ে তাঁরা দ্রুত ভবন থেকে বেরিয়ে আসেন। পাশের পেনিসিলিন ভবনে থাকা কয়েকজন শ্রমিকের বের হতে কিছুটা সময় লাগে। এ সময় ধোঁয়ায় কয়েকজনের শ্বাসকষ্টের উপক্রম হলেও কেউ গুরুতর আহত হননি বলে তাঁদের দাবি।
আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও পুরোপুরি নির্বাপণ, ডাম্পিং ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজ আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পর্যন্ত চলতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
