গ্যারেজভাড়া কমানো, চার্জিং ফি নির্ধারণ ও যাত্রী পরিবহনের ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে ঢাকার সাভারে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধ রেখে বিক্ষোভ করছেন চালকদের একটি অংশ। এ সময় বিভিন্ন সড়কে অটোরিকশা চলাচলে বাধা, ভাঙচুর ও চালকদের মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এমনকি রোগীবাহী অটোরিকশাও ভাঙচুর করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সকাল থেকে সাভারের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন চালকেরা। এ সময় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কসহ বিভিন্ন সড়কে অটোরিকশা চলাচলে বাধা দেন তাঁরা।
চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত দেড় বছরে কয়েক দফায় গ্যারেজভাড়া বাড়ানো হয়েছে। সর্বশেষ সোমবার গ্যারেজমালিকেরা অটোরিকশাপ্রতি ভাড়া ২৫০ টাকা নির্ধারণ করেন। এর প্রতিবাদে সম্মিলিতভাবে কর্মসূচি পালন করছেন চালকেরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আগামী তিন দিন আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তাঁরা।
আন্দোলনের প্রস্তুতি হিসেবে সোমবার মধ্যরাতে সাভারের বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করা হয়। এ সময় চালকদের মঙ্গলবার গ্যারেজ থেকে অটোরিকশা বের না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সকাল থেকে সাভারের বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে লাঠিসোঁটা হাতে দলবদ্ধভাবে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। কোনো সড়ক বা লেনে অটোরিকশা চলাচল করতে না দেওয়াই ছিল তাঁদের লক্ষ্য। এ জন্য সড়ক-মহাসড়কে অটোরিকশা দেখলেই থামিয়ে যাত্রী নামিয়ে দেওয়া, চাকার হাওয়া ছেড়ে দেওয়া এবং অটোরিকশা আটকে রাখার ঘটনা ঘটে। তবে অন্য যানবাহন চলাচলে তাঁদের বাধা দিতে দেখা যায়নি।
আন্দোলনরত চালকেরা জানান, আগে এসব এলাকার গ্যারেজে অটোরিকশাপ্রতি ব্যাটারি চার্জিং বিলসহ ১৫০ টাকা নেওয়া হতো। গত দেড় বছরে বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধির অজুহাতে গ্যারেজমালিকেরা কয়েক দফায় ভাড়া বাড়ান। সর্বশেষ সোমবার তা ২৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
চালকদের দাবি, বর্ধিত গ্যারেজভাড়া অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে যৌক্তিকভাবে গ্যারেজভাড়া নির্ধারণের পাশাপাশি যাত্রী পরিবহনের ভাড়াও বাড়াতে হবে।
মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সাভার পৌর এলাকার ব্যাংকটাউন, কাতলাপুর, গেন্ডা, উলাইল ও তালবাগসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে সড়কে অটোরিকশা চলাচল করতে দেখা যায়নি।
তবে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে কিছু অটোরিকশাকে যাত্রী পরিবহন করতে দেখা যায়। মহাসড়কের উলাইল স্ট্যান্ডে এসব অটোরিকশা থামিয়ে যাত্রীদের নামিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় কয়েকটি অটোরিকশার চাকার হাওয়া ছেড়ে দেওয়া হয়। যাত্রী পরিবহনের কারণে কয়েকজন চালককে মারধরও করা হয়।
বেলা পৌনে ১টার দিকে চালকদের একটি অংশ সাভারের তারাপুর মাঠে জড়ো হন। পরে তাঁরা মুক্তির মোড় এলাকায় একটি রোগীবাহী অটোরিকশাসহ অন্তত তিনটি অটোরিকশা ভাঙচুর করেন। এ সময় সেখানে বিক্ষোভও করেন তাঁরা।
অটোরিকশাচালক মো. ময়নাল হোসেন বলেন, ব্যাটারি চার্জে বিদ্যুৎ বিল বাড়ার কারণে গ্যারেজমালিকেরা অটোরিকশার ভাড়া বাড়িয়েছেন। এ জন্য গ্যারেজভাড়া ও চার্জিং ফি কমানোর দাবিতে তাঁরা আন্দোলন করছেন। দাবি আদায় না হলে কর্মসূচি চলবে।
মুক্তির মোড়ে অবস্থান নেওয়া চালকদের সঙ্গে কথা বলেন সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম। তিনি আন্দোলনকারীদের সেখান থেকে চলে যাওয়ার অনুরোধ জানান। তবে তাঁরা তাঁর কথায় সাড়া দেননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি মো. সাইফুল আলম বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আন্দোলনের পেছনে অন্য কোনো গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা বা অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা-ও তদন্ত করে দেখা হবে।
