পুজোয় শহর ছেড়ে জঙ্গলে ছুটি কাটাতে এসে ‘বোনাস’ পেলেন পর্যটকরা। ষষ্ঠী থেকে নবমী, টানা চারদিন সুন্দরবনের একাধিক জঙ্গলে দেখা মিলেছে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের। একটি-দু’টি নয়, পরপর চার জায়গায় বাঘমামার দর্শন পেয়ে খুশিতে আত্মহারা পর্যটকরা।
বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলের পাশাপাশি পর্যটকরা কেউ এসেছিলেন ত্রিপুরা, কেউ মধ্যপ্রদেশ থেকে। উদ্দেশ্য একটাই, পুজোর ছুটিতে সুন্দরবনের কোলে কয়েকটা দিন কাটিয়ে যাওয়া। আর ‘ভাগ্য’ সহায় হলে বাঘের দেখা পাওয়া তো উপরি পাওনা। এবার পুজোয় সেই উপরি পাওনাই পেয়েছেন সকলে। জানা গিয়েছে, এবার পুজোয় সুন্দরবনে পর্যটকদের ঢল শীতকালের ভিড়কেও ছাপিয়ে গিয়েছে। ষষ্ঠী থেকে এই ভিড় চলেছে নবমী পর্যন্ত। মালদহ, মুর্শিদাবাদ-সহ উত্তরবঙ্গের জেলাগুলি থেকে সবচেয়ে বেশি মানুষ এসেছেন। এবার সবচেয়ে বেশি বাঘের আনাগোনা দেখা গিয়েছে পীরখালির জঙ্গলে। কোথাও কোথাও একই স্পটে একাধিকবার ‘টাইগার সাইটিং’ হয়েছে।
পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মৃত্যুঞ্জয় অধিকারী বলেন, “অন্য বছরের তুলনায় এবার ভিড় অনেকটাই বেশি। শীতের শুরু আর পুজোর ছুটি মিলিয়ে সুন্দরবন এখন অন্য মেজাজে। কম খরচে এত ভালো ট্যুর আর কোথাও হয় না। অনুমতির ঝামেলা কম, খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থাও ভালো। তাই উইকএন্ড সুন্দরবনের পিরখালির জঙ্গলে বাঘ। ডেস্টিনেশন হিসেবে সুন্দরবনকেই বেছে নিচ্ছেন অনেকে।” অষ্টমী ও নবমীতে সুন্দরবনের প্রায় প্রতিটি হোটেলই ছিল ভর্তি। অনেক ট্যুর অপারেটর শুধু জঙ্গল সাফারিই নয়, আশপাশের গ্রামের পুজো মণ্ডপ ঘুরিয়ে দেখানোরও ব্যবস্থা করেছিলেন। সন্ধ্যাবেলায় গ্রামের পুজো দেখার সুযোগ পেয়েছেন পর্যটকরা।
ব্যাঘ্র প্রকল্পের এক আধিকারিক জানান, “সুন্দরবনে পর্যটকদের সংখ্যা বাড়ছে। তবে পুজোয় এবার যেভাবে ঢল নেমেছে, তা গত কয়েক বছরে দেখা যায়নি। সব মিলিয়ে ভ্রমণ মানচিত্রে সুন্দরবন এখন অন্যতম আকর্ষণীয়।” তবে ট্যুর অপারেটর এবং বিভিন্ন লঞ্চ মালিকদের দাবি, পর্যটক বাড়লেও পরিকাঠামো উন্নত হচ্ছে না। শুধু তাই নয়, যে সংখ্যক পর্যটক আসছেন, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভ্রমণের পারমিট মিলছে না। বাড়ছে না অনুমতিপ্রাপ্ত টুরিস্ট লঞ্চের সংখ্যাও।
