প্রেমিকের প্রতারণার শিকার হয়ে দীর্ঘ ১১ মাস মানসিক কষ্টের মধ্যে ছিলেন থাই অভিনেত্রী ক্লডিয়া চাকরাফান। প্রেমিকের অবমূল্যায়ন ও অপমানের কারণে একপর্যায়ে নিজেকেই দোষ দিতে শুরু করেন তিনি। প্রতারণার বিষয়টি জানার পর প্রথমে প্রেমিকের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা অন্য নারীর বিরুদ্ধে মামলা করতে চেয়েছিলেন। তবে পরে জানতে পারেন, ওই নারীও একই ব্যক্তির প্রতারণার শিকার। এরপর সেই নারীকে প্রতিপক্ষ হিসেবে না দেখে বরং ধন্যবাদ জানান অভিনেত্রী।
থাইল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম খাওসডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘ক্লাব ফ্রাইডে শো’ অনুষ্ঠানে নিজের অতীতের প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন ক্লডিয়া।
ক্লডিয়া জানান, নিউইয়র্ক ও ব্যাংককের মধ্যে দূরত্বের কারণে তাদের সম্পর্ক ছিল দূরবর্তী প্রেমের (লং ডিসট্যান্স রিলেশনশিপ)। প্রেমকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে কাজের সুযোগও হাতছাড়া করেছিলেন তিনি। তার মতে, সম্পর্কের মধ্যে ভালোবাসা না থাকলে আলাদা হয়ে যাওয়াই ভালো।
প্রেমিকের প্রতারণার বিষয়টি ধরে ফেলার পরও উল্টো তাকেই দোষারোপ করা হয়। তাকে বলা হয়েছিল, তিনি নাকি নিজের মনেই এসব ভেবে নিচ্ছেন এবং মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন। প্রেমিকের কাছ থেকে বারবার অবমূল্যায়ন ও অপমানের শিকার হয়ে ক্লডিয়া নিজেকেই দোষ দিতে শুরু করেন। এমনকি প্রেমিকের সামনে নিজের কষ্ট প্রকাশ করে কাঁদতেও পারতেন না তিনি।
টানা ১১ মাস নিজের কষ্ট গোপন করে রাখেন অভিনেত্রী। কাউকে কিছু বলতে না পারায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। এ সময়ে তার ওজন কমে যায়, ঘুমের সমস্যা দেখা দেয় এবং ঘুমানোর জন্য ওষুধের ওপর নির্ভর করতে হয়। নিজের মাকেও এসব কথা জানানোর সাহস পাননি তিনি।
প্রথমদিকে প্রেমিকের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা অন্য নারীর বিরুদ্ধে মামলা করার পরিকল্পনা করেছিলেন ক্লডিয়া। কিন্তু পরে ওই নারীর সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, তারাও দুজন একই ব্যক্তির প্রতারণার শিকার হয়েছেন। বিষয়টি জানার পর তার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়। যে নারীকে একসময় প্রতিপক্ষ মনে করেছিলেন, সেই নারীই হয়ে ওঠেন তার কষ্ট বোঝার একজন মানুষ।
ক্লডিয়া ওই নারীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তিনি যেন তার জীবনে দেবদূতের মতো এসেছেন। পরে দুজন একে অপরকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দেন এবং অতীতের জন্য পরস্পরের কাছে ক্ষমা চান।
