স্টাফ রিপোর্টার।।
কর্মীরা কাজে অনুপস্থিত কিন্তু চূড়ান্ত বেতন শিটে তাদের উপস্থিত দেখানো এবং ঘষামাজা করে হাজিরা পরিবর্তন করে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) তিন কর্মচারীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
একই ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংরক্ষণে অবহেলার দায়ে কনজারভেন্সি শাখার একজন নিম্নমান সহকারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
গত ৭ অক্টোবর জারি করা এক অফিস আদেশে তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
চাকরি থেকে অব্যাহতি পাওয়া তিন কর্মচারী হলেন, চূড়ান্ত কম্পিউটার ভিত্তিক বেতন বিল প্রস্তুতের দায়িত্বে নিয়োজিত মোস্তাফিজুর রহমান ও বিল প্রস্তুতকারী মশিউর রহমান জনি এবং কনজারভেন্সি সুপারভাইজার শাহীনুর রহমান। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংরক্ষণের দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলার অভিযোগে কনজারভেন্সি শাখার নিম্নমান সহকারী মো. আনোয়ার হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
করপোরেশন (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা, ১৯৯৩-এর ৪৪(১) বিধি অনুসারে তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অফিস আদেশে বলা হয়েছে, সাময়িক বরখাস্তকালীন আনেয়ার হোসেন বিধি অনুযায়ী খোরাকি ভাতা পাবেন।
গত ৬ জুন একটি দৈনিকে ‘কাজে নেই, বেতন শিটে উপস্থিত’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি তদন্তে উদ্যোগ নেয় সিটি করপোরেশন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৫ জুন অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে কর্তৃপক্ষ।
কমিটিতে সিটি করপোরেশনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল-ইমরানকে আহ্বায়ক করা হয়। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন— ভেটেরিনারি অফিসার ড. পেরু গোপাল বিশ্বাস এবং আইটি ম্যানেজার শেখ হাসান হাসিবুল হক। সিটি করপোরেশনের সচিবের স্বাক্ষরিত চিঠিতে কমিটিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করে সাধারণ শাখায় প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের সচিব মো. রেজা রশীদ বলেছেন, কমিটি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। তদন্তে কিছু কর্মী কাজ করেনি, অথচ বেতন শিটে উপস্থিত দেখিয়ে তাদের টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন অভিযুক্তরা। বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
