Published on
:
2 min read
সন্তানের মৃত্যু দেখার চেয়ে বড় যন্ত্রণা কোনও বাবা-মায়ের কাছে আর কিছু নেই। আর সেই ক্ষতি এতটাই যন্ত্রণাদায়ক যে, মা নিজেই তাঁর সন্তানের মৃত্যুকামনা করেন। শেখর সুমনের জীবনেও এমনই একটা ঘটনা ঘটেছিল, যখন তিনি জানতে পারেন যে তাঁর ১১ বছর বয়সি ছেলে আয়ুশ গুরুতর অসুস্থ। ধীরে ধীরে অবস্থার অবনতি হওয়া যেন মুঠো থেকে বালির মতো সবকিছু পিছলে পড়ার মতো হয়ে যাচ্ছিল। বাবা-মা আগেই বুঝতে পেরেছিলেন যে তাদের সন্তান আর কখনও সুস্থ হবে না। একটা সময়ে শেখরের স্ত্রী অলকা ভীষণ ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। এমনকী চিকিৎসকদের কাছে তাঁর অসহায় ছেলের জীবন ভিক্ষার জন্য প্রার্থনাও করেছিলেন।
শেখর সুমন জানান, বাবা হিসেবে যে যন্ত্রণা তিনি সহ্য করেছেন, ঈশ্বর যেন আর কাউকে কখনও সেই একই যন্ত্রণা না দেন। সম্প্রতি, এক সাক্ষাৎকারে তিনি এমন কিছু মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করেছেন, যা কখনও মনে করতে চাননি। ৩১ বছর আগে তিনি যে যন্ত্রণা এত কাছ থেকে অনুভব করেছিলেন, সেই একই যন্ত্রণা যেন আবার নতুন করে অনুভব করেছেন।
সেই সময়ের যন্ত্রণা শেখর সুমনের হৃদয়ে এখনও টাটকা। ১১ বছরের ছেলে আয়ুশের গুরুতর অসুস্থতার সময়ে পরিবার তাকে বাঁচানোর জন্য চেষ্টার কোনও ত্রুটি রাখেননি বলেও জানান শেখর। সম্প্রতি, এক সাক্ষাৎকারে শেখর সুমন তাঁর ছেলে আয়ুশের শেষ মুহূর্তগুলোর কথা স্মরণ করেছেন। তিনি জানান, আয়ুশ এন্ডোমায়োকার্ডিয়াল ফাইব্রোসিস (ইএমএফ) নামক একটি বিরল হৃদরোগে ভুগছিল। সেই সময়ে এই রোগের কোনও চিকিৎসা ছিল না। ১৯৯৫ সালে মাত্র ১১ বছর বয়সে এই রোগেই আয়ুশের মৃত্যু হয়।
শেখর জানিয়েছেন, তাঁর ছেলের জীবনের শেষ মুহূর্তে এমন কিছু ঘটেছিল যা তিনি কখনও ভুলতে পারেননি। আয়ুশ সংস্কৃত শ্লোক আবৃত্তি করতে শুরু করে এবং তার চারপাশে একটি সোনালি আলো দেখার কথাও বর্ণনা করেছিলেন। এর পরে তার বাবার হাত ধরে বলেছিলেন, ‘বাবা, আমায় যেতে দিও না। বাঁচাও।’
সেই মুহূর্তটা ভাবলে এখনও চোখে জল আসে শেখরের। ছেলে তার বাবার কাছে এমন অনুরোধ করেছে, অথচ বাবা সম্পূর্ণ অসহায়। তাঁর হাতে কোনও ক্ষমতাই নেই। শেখর জানান, জীবনের শেষ মুহূর্তে আয়ুশ পরিবারের সদস্য থেকে ড্রাইভারকেও জানিয়েছিল কতটা ভালোবাসে। সন্তানের এমন শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখাটা মায়ের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর। তিনি শুধু একটি অলৌকিক ঘটনার অপেক্ষায় ছিলেন, যাতে ছেলে কোনও ভাবে সুস্থ হয়ে ওঠে।
শেখর জানান, একটা সময়ে তাঁর স্ত্রী অলকা ছেলের এমন যন্ত্রণা আর সহ্য করতে পারছিলেন না। ছেলের অবস্থা দেখে তিনি এতটাই কষ্ট পেয়েছিলেন যে ডাক্তারদের কাছে তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। অলকা বুঝতে পারছিলেন যে আয়ুশের সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তাই তিনি চাননি তার সন্তান আর কষ্ট পাক। যদিও শেখর তখনও ছেলেকে বাঁচানোর আশা ছাড়েননি। স্ত্রীকে কথা দিয়েছিলেন, একেবারে শেষ পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যাবেন।
শেখর সুমন আরও জানান, যখন তিনি আয়ুশের গুরুতর অসুস্থতার কথা জানতে পারেন, তখন কেরিয়ারের বেশ কঠিন সময় চলছিল তাঁর। তিনি কাজ খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। ছেলের চিকিৎসার খরচ জোগাতে এবং পারিবারিক দায়িত্ব পালনের জন্যও তাঁকে কাজ করতে হতো।