ময়মনসিংহে শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাঅষ্টমীতে উৎসবমূখর পরিবেশে কুমারী পুজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকালে দেবীর মহাঅষ্টমী কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজার মাধ্যমে দেবী দুর্গা পূজিত হন ভক্তদের কাছে। পরে দেবীর সন্ধিপূজা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি, কাঁসর ঘণ্টা ও ঢাকের তালে মেতে উঠেন ভক্তরা।
এদিকে সকালে নগরীর রামকৃষ্ণ মিশনে দেবী দুর্গার কুমারী রূপে ছয় বছর বয়সি সরসী চক্রবর্তীকে মালিনী রূপে সাজিয়ে অঞ্জলি প্রদানের মাধ্যমে কুমারী পূজা সম্পন্ন হয়। কুমারী বালিকার মধ্যে বিশুদ্ধ নারীর রূপ কল্পনা করে তাকে দেবী জ্ঞানে পূজা করবেন ভক্তরা। সরসী নগরীর দুর্গাবাড়ী রোডের ভাস্কর চক্রবর্তী এবং কমলিকা চক্রবর্তীর কন্যা। সে নগরীর অন্বেষণ কিন্ডারগার্টেনে কেজির ছাত্রী। কুমারী পূজায় জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ভক্ত ও পূঁজারিরা অংশগ্রহণ করেন।
মহাঅষ্টমীর দিন ভোরে নির্বাচিত কুমারীকে স্নান করিয়ে নতুন লাল শাড়ি, গয়না, পায়ে আলতা, ফুলের মালা এবং অলঙ্কারে সাজানো হয় দেবীরূপে। পদ্মফুল হাতে দেবী পূজার আসনে বসিয়ে ষোলোটি উপাদানে দেবীজ্ঞানে মন্ত্রপাঠে তার বন্দনা করা হয়। এ সময় চারদিকে শঙ্খধ্বনি, ঢাকের বোল, উলুধ্বনি আর দেবী বন্দনায় মুখর হয়ে ওঠে।
শত্রুদের ধ্বংস, সব কর্মের শুভ ফল পেতেও এই পূজা হয়ে থাকে। কুমারী পূজা সম্মান, লক্ষ্মী, বিদ্যা এবং তেজ নিয়ে আসে। সাধারণত ১ থেকে ১৬ বছরের অজাতপুষ্প সুলক্ষণা ব্রাহ্মণ বা অন্য গোত্রের অবিবাহিত কুমারী নারীকে দেবী জ্ঞানে পূজা করা হয়।
এছাড়া নগরীর দুর্গাবাড়ি মন্দির, দশভূজা মন্দির, বড় কালীবাড়ি মন্দির, ছোট কালীবাড়ি মন্দির, লোকনাথ আশ্রম ও মন্দির, বিশ্বনাথ মন্দির, আমলাপাড়া মন্দির, আঠারোবাড়ি সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, অলকা নদী বাংলা কমপ্লেক্সসহ প্রতিটি মন্দিরে উৎসবমুখর পরিবেশে চলে মহাঅষ্টমীর পূজার্চনা। মণ্ডপে-মণ্ডপে ভক্ত ও পূজারিরা ভিড় জমান মহাঅষ্টমীতে অঞ্জলি নিতে। পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রতিটি মণ্ডপে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন করতে প্রতিটি পূজামণ্ডপে সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত রয়েছে। অশুভের বিনাশ ঘটিয়ে পৃথিবীতে শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠা হবে এবং শান্তি বিরাজ করবে সর্বত্রই- এই কামনা করেন পূজারিরা।