২-৩ মাস ধরে লাগাতার প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে কয়েকজন অজ্ঞাত পরিচয় দুষ্কৃতী। এমনকী তাঁর উপর হামলাও হয়েছে বলে অভিযোগ। সোমবার উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের অফিসে দুষ্কৃতীদের নথি তছনছ ও ভাঙচুরের ঘটনার পর নিরাপত্তা চেয়ে বারাসত পুলিশ জেলার এসপিকে চিঠি লিখলেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি নারায়ণ গোস্বামী।
চিঠিতে তিনি জানান, ৯ অক্টোবর তাঁর উপর হামলা হয়েছিল। ৬-৭ জন মাস্ক পরা দুষ্কৃতী তাঁর গাড়িতে পাথর ও ডিম হামলা চালায়। জেলা পরিষদের অফিস চত্বরেই এই আক্রমণ হয়। এরপর ১২ অক্টোবর, সোমবার জেলা পরিষদের অফিসে ঢুকে তাঁর রুমে ‘তাণ্ডব’ চালায় ২০-২৫ জন। এমনকী আলমারিতে থাকা নথিপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেওয়া হয়। সেই সময় অফিসে ছিলেন না নারায়ণ। ভাঙচুরের ঘটনার পর তাঁকে ফোন করে খুনের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এই প্রথম নয়, প্রায় ২-৩ মাস ধরে তিনি হুমকি ফোন পাচ্ছেন। একথা জানিয়ে এসপিকে চিঠি লেখেন তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক। ঘটনার তদন্তের আর্জি জানান তিনি। পাশাপাশি পুলিশি নিরাপত্তা চান নারায়ণ।
এই ঘটনার পর বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফলে হামলার ঘটনা ঘটেছে। নারায়ণবাবু ঋতব্রতৃ-তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ করে থাকতে পারেন। তাই ‘গোঁসা’ করেছে কালীঘাট তৃণমূল। সেই কারণেই তাঁরা হামলা চালিয়েছে।
এবিষয়ে নারায়ণ গোস্বামী বলেন, “অফিসে সুস্থ পরিবেশ না থাকলে কর্মীরা কাজ করতে পারবে না। সোমবার ২০-২৫ জন ঢুকে তাণ্ডব চালানোয় অফিসে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়। অফিসের কেউই দুষ্কৃতীদের চেনে না। জেলা পরিষদের সম্পত্তি তো আমার ব্যক্তিগত নয়। এগুলি সরকারি সম্পত্তি। তাই সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হলে সেই মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা করছি। যে বা যারা করেছেন তাঁদের কোনও বক্তব্য থাকলে আমাকে এসে বলতে পারতেন। কিন্তু বারাসতের গরিমা, সংস্কৃতি এভাবে নষ্ট করা ঠিক নয়।”
