ভোলা পৌর শহরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইকের সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বাড়তে থাকায় চরম যানজট ও বিদ্যুৎ সংকট তৈরি হচ্ছে। শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও বাজার এলাকাগুলোতে সকাল ও বিকালের ব্যস্ত সময়ে এসব যানবাহনের চাপ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। রাস্তার পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো এবং অনিয়ন্ত্রিত থামার কারণে স্বাভাবিক যান চলাচলে তীব্র ধীরগতি সৃষ্টি হচ্ছে, যার ফলে ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থী, অফিসগামী মানুষ, ব্যবসায়ী ও রোগীরা।
ভোলার ট্রাফিক পরিদর্শক (টিআই) আজিজুল করিম জানান, আইনশৃঙ্খলা সভায় অটোরিকশাজনিত যানজট নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং ভোলা পৌরসভাকে ইতোমধ্যে চিঠি দেওয়া হয়েছে; জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার সমন্বয়ে যত্রতত্র পার্কিং বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
?এদিকে অটোরিকশার সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে লাফিয়ে বাড়ছে ব্যাটারি চার্জে ব্যবহৃত বিদ্যুতের চাহিদা। ভোলা বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের (ওজোপাডিকো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইউসুফ জানান, শহরে বাণিজ্যিকভাবে অনুমোদিত প্রায় ২৫টি ইজিবাইক চার্জিং সংযোগ রয়েছে, যার প্রতিটিতে ১০ কিলোওয়াট করে লোড নেওয়া হয়। আগে যেখানে চার্জিংয়ে প্রায় ২০০ কিলোওয়াট লোড ব্যবহৃত হতো, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০০ কিলোওয়াটে, যা প্রায় অর্ধ মেগাওয়াট বিদ্যুতের সমান। একই সঙ্গে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার বিষয়টিও রাজস্ব ক্ষতি ও অগ্নিকাণ্ডের মতো নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) রাজীব চন্দ্র ভৌমিক বলেন, ‘অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান জোরদার করা হয়েছে। সম্প্রতি অবৈধ সংযোগ ব্যবহার করে অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে সত্যতা পাওয়া গেছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’
ভোলাবাসীর স্বল্প দূরত্বের যাতায়াতে অটোরিকশা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় স্থানীয়রা এগুলো একেবারে বন্ধ না করে সুনির্দিষ্ট নিয়মকানুনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। সচেতন মহল মনে করছেন, প্রথমে ভোলার সড়কে চলাচলকারী অটোরিকশার প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। এরপর নিবন্ধিত কাগজপত্র যাচাই, চালকদের প্রশিক্ষণ, নির্দিষ্ট রুট ও স্ট্যান্ড নির্ধারণ এবং যত্রতত্র পার্কিং বন্ধে পদক্ষেপ নিতে হবে। সেই সঙ্গে অটোরিকশা তৈরি ও বিক্রি প্রতিষ্ঠান, যানবাহনের অনুমোদন ও চার্জিং গ্যারেজের বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়টি আলাদাভাবে খতিয়ে দেখা জরুরি। সাধারণ মানুষের মতে, ভোলা পৌরসভা, জেলা প্রশাসন, বিআরটিএ, ট্রাফিক পুলিশ এবং বিদ্যুৎ বিভাগের যৌথ উদ্যোগে একটি সমন্বিত জরিপ ও পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করে ব্যবস্থা নিলে শহরের সড়কে দ্রুত শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।
