১৯ কোটি ৫৩ লাখ ৭২ হাজার ৩১৯ টাকা থাকা সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ইসলাম, তার স্ত্রী জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব সায়লা ফারজানাসহ চার জনের ৮৩ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক আয়েশা আক্তার মৌসুমী এ আদেশ দিয়েছেন। অপর দুই জন হলেন-মনিরুলের শ্যালক ব্যবসায়ী রেজাউল আলম শাহীন ও শ্যালকের স্ত্রী গৃহিনী ও ব্যবসায়ী সানজিদা খান টুম্পা।
অবরুদ্ধের আদেশ হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে মনিরুলের ১১ ব্যাংক হিসাবে ৮৫ লাখ ১০ হাজার ২১৬ টাকা, সায়লা ফারজানা পাঁচ হিসাবে ৮ লাখ দুই হাজার ৬৭০ টাকা, শাহীনের ৪০ হিসাবে ১০ কোটি ৬০ লাখ ৩৭ হাজার ৩৮২ টাকা এবং টুম্পার ২৭ ব্যাংক হিসাবে ৮ কোটি ২২ হাজার ৫১ টাকা রয়েছে। দুদকের কমিশনের উপপরিচালক মোজাম্মেল হোসেন এসব ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ চেয়ে আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, মনিরুল ইসলাম ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে ২৫ কোটি টাকা লোপাট, জঙ্গিবাদের তকমা দিয়ে কুয়েত সোসাইটি ফর রিলিফ ও শারজাহ চ্যারিটি ইন্টারন্যাশনাল নামক এনজিওর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে অর্থ আত্মসাৎ এবং বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে নিজ ও পরিবারের সদস্যদের নামে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন মর্মে অভিযোগ রয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে বিভিন্ন দুর্নীতি মাধ্যমে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা অবৈধ সম্পদ অর্জন করে ভোগদখলে রেখেছেন মর্মে তথ্য পাওয়া গেছে। তারা ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন মর্মে তথ্য পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। অনুসন্ধানকালে সংগৃহিত রেকর্ডপত্র অনুযায়ী অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের নামে অসংখ্য ব্যাংক হিসাব পাওয়া গিয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য মতে বর্তমানে এসব হিসাবে সমূহে স্থিতির পরিমান সর্বমোট ১৪ কোটি ২৫ লাখ ২৫ হাজার ৩৮৮ টাকা। এসব অর্থ তারা উত্তোলনের করে বিদেশে পাচারের চেষ্টা করছেন মর্মে জানা গেছে। অনুসন্ধানকালে বিভিন্ন সূত্র হতে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ১৯ কোটি ৫৩ লাখ ৭২ হাজার ৩১৯ টাকা অন্যত্র হস্তান্তর, স্থানান্তর বা বেহাত করার প্রচেষ্টা করছেন। এসব সম্পত্তি হস্তান্তর বা স্থানান্তর হয়ে গেলে রাষ্ট্রের সমূহ ক্ষতির কারণ রয়েছে। এমতাবস্থায় এসব হিসাবসমূহ অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন।
