আজকাল ওয়েবডেস্ক: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের জামিন মঞ্জুর করেছে সুপ্রিম কোর্ট। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই)-র দায়ের করা একটি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছিল। এই মামলায় আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের আর্থিক অনিয়ম এবং অযোগ্য প্রার্থীদের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য মেধা তালিকায় কারচুপি করার অভিযোগ রয়েছে।
বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি প্রসন্ন বি বরালের বেঞ্চ, কলকাতা হাইকোর্টের চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়া-তে জারি করা আদেশটি খারিজ করে দিয়েছে। হাইকোর্ট সন্দীপ ঘোষের জামিনের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিল।
শীর্ষ আদালত সন্দীপ ঘোষের কারাবাসের সময়কাল এবং বিচার প্রক্রিয়ার অগ্রগতির বিষয়টি বিবেচনা করেছে। আদালত লক্ষ্য করেছে যে, তিনি দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে হেফাজতে রয়েছেন এবং ১৪৭ জন সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র সাতজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, "পরিস্থিতি বিবেচনা করে, কারাবাসের সময়কাল এবং বিচার প্রক্রিয়ার বর্তমান পর্যায়কে গুরুত্ব দিয়ে আমরা হাইকোর্টের দেওয়া আদেশটি বাতিল করছি এবং এই আপিল মঞ্জুর করছি।"
এর প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের আদেশ বাতিল করে সন্দীপ ঘোষকে জামিন দিয়েছে। তবে, বিচারিক আদালত যেসব শর্তাবলী আরোপ করবে, তা তাঁকে মেনে চলতে হবে।
২০২৪ সালের ২৪ আগস্ট সিবিআই-এর দুর্নীতি দমন শাখা (কলকাতা) একটি মামলা দায়ের করেছিল। সেই ঘটনার ভিত্তিতে ‘স্পেশাল কেস নম্বর ১/২০২৫’-এ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়।
এই মামলায় ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২০বি, ৪০৯, ৪২০, ৪৬৮ এবং ৪৭১ ধারায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা, জালিয়াতি এবং জাল নথি ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া, ‘প্রিভেনশন অফ করাপশন অ্যাক্ট’ বা দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের অধীনেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।
সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো মূলত দু'টি বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। তিনি যখন আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ ছিলেন, তখন কলেজে আর্থিক অনিয়ম এবং মেধা তালিকায় কারচুপি করে অযোগ্য প্রার্থীদের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। ৭ জানুয়ারি, ২০২৫-এ বিশেষ সিবিআই আদালত সন্দীপ ঘোষের জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয় এবং পরবর্তীতে ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬-এ কলকাতা হাইকোর্টও তাঁর আবেদন নাকচ করে দেয়। এরপরই তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন।
ঘোষের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ আইনজীবী সিদ্ধার্থ আগরওয়াল, সঙ্গে ছিলেন এওআর আদিত্য গিরি ও আইনজীবী হেমন্ত কালরা। অন্যদিকে সিবিআই-এর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল সূর্যপ্রকাশ ভি. রাজু।
