বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচনে ১১ দলের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন বলেছেন, যে সকল ওয়াদা করে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে, তার কোনটিই বাস্তবায়ন করতে পারেনি।
ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচনে ১১ দলের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন বলেছেন, যে সকল ওয়াদা করে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে, তার কোনটিই বাস্তবায়ন করতে পারেনি। তারা বলেছিল, ক্ষমতায় গেলে প্রতিটি ফ্যামিলিকে ফ্যামিলি কার্ড দিবে, এনজিওর ঋন মওকুফ করবে, এক কোটি বেকারকে চাকুরী দিবে, কৃষককে কৃষকার্ড দিবে। এসবের কিছুই তারা দিতে পারেনি, এতোদিন তাদের কোন খবরও ছিল না। এখন উপনির্বাচন আসছে , এবার তারা বলে বেড়াচ্ছে ধানের শীষে ভোট দিলে ফ্যামিলি কার্ড পাবে, দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে পাবে না। শুধু কার্ড নয়, সকল ক্ষেত্রেই তারা দলীয়করণ করে সাধারণ নাগরিকদের সাথে বৈষম্য করছে। আগামী ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের ভোটারগণ দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করার মাধ্যমে বিএনপির সকল বৈষম্যের জবাব দিবে। গতকাল সোমবার বিকালে রুহিয়া উপজেলার আখানগর ইউনিয়নে আয়োজিত দাঁড়িপাল্লার নির্বাচনি উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দেলাওয়ার হোসেন বলেন, বিএনপি বলছে উন্নয়নের ধারাবহিকতা রক্ষা করতে তাদের ভোট দিতে। আর আমি বিজয়ী হলে নাকি কোন বরাদ্দ আসবে না। ৭৭ আসনে বিরোধী দলের এমপিরা আছেন, সেই জায়গায় কি রাষ্ট্র বরাদ্দ দেয় না? সেখানেও তো বরাদ্দ হচ্ছে। রাস্তাঘাটের কাজ হচ্ছে। অবকাঠামো উন্নয়ণ হচ্ছে। আমাদের এমপিরা বরাদ্দের শতভাগ টাকা জনগণের উন্নয়নে খরচ করছে। অপরদিকে সরকারি দলের এমপিরা যা বরাদ্দ পায় তার অর্ধেক তারা দূর্নীতি করে, বাকি অর্ধেক দিয়ে কাজ করে। সে কাজেও আবার দূর্নীতি হয়। এমন নি¤œ মানের কাজ করে যা কিছুদিন পর নষ্ট হয়ে যায়। আপনারা যদি আমাকে এমপি নির্বাচিত করেন, তাহলে রাষ্ট্রের বরাদ্দের শতভাগ এলাকার উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। এখানে কোন দূর্নীতি থাকবে না, অনিয়ম থাকবে না, বরাদ্দের সকল হিসাব জনগণকে পরিস্কারভাবে প্রদান করা হবে। সুতরাং দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে আপনারা আপনাদের অধিকার বুঝে নিবেন।
হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে তাদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান দূর্গাপুজার শুভেচ্ছা জানিয়ে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, আপনার যেন আপনাদের ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘেœ উদযাপন করতে পারেন, সে জন্য আমরা আপনাদের মন্দির কমিটির নেতাদের সাথে বসে মিটিং করেছি। আমাদের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেয়ার কথা জানিয়েছি। আপনাদের কোন প্রকার অসুবিধা হবে না। আমরা সার্বক্ষণিক আপনাদের পাশে ছিলাম , আছি, ভবিষ্যতেও থাকব। একটি গোষ্ঠী হিন্দু ভাইবোনদের বাড়িঘরে হামলা করেছে। তাদের অনেকের নামে মামলা করেছে, তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লূট করেছে, জায়গা জমি দখল করেছে। আমরা সব মনে রেখেছি। আমি যদি এমপি নির্বাচিত হই, তাহলে হিন্দু ভাই-বোনদের ওপর যারা অন্যায় জুলুম করেছে, তাদের সকলকে আইনের আওতায় এনে বিচার করব।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. মোবারক হোসেন বলেন, আপনারা ঠাকুরগাঁওবাসি সত্যি ভাগ্যবান যে, দেলাওয়ার হোসেনের মতো একজন যোগ্য নেতা পেয়েছেন। এলাকার উন্নয়নের জন্য এবার আপনারা সকলে হাতে হাত কাধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে দেলাওয়ার হোসেন ভাইকে এমপি নির্বাচিত করবেন। আপনারা যদি তাকে বিজয়ী করতে পারেন, তাহলে এ এলাকা হবে একটি মাদক, সন্ত্রাস, দূর্নীতি, দখল ও জুলুম নির্যাতন মুক্ত সুখী সম্মৃদ্ধ এলাকা।
অপর বিশেষ অতিথি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, দেলাওয়ার হোসেন ভাই অত্যন্ত সহজ সরল মনের একজন মানুষ। তার কাছে যেতে কোন নেতা ধরতে হবে না। যার যখন প্রয়োজন তার কাছে য়েতে পারবেন। আপনারা আপনাদের সুখে দু:খে তাকে সব সময় পাশে পাবেন। হিন্দু মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সকলে তার কাছে সমান মর্যাদার। তিনি কখনোই কারো প্রতি বৈষম্যের নজরে দেখেন না। সাধারণ মানুষ যেমন এমপি দেখতে চায়, ঠিক তেমনিএকজন মানুষ হলেন দেলাওয়ার হোসেন ভাই। সুতরাং,আগামী ২৯ অক্টোবর দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে তাকে আপনাদের সেবা করার সুযোগ করে দিবেন।
জামায়াত নেতা আসফিকুর রহামনের সভাপতিত্বে ও মোস্তাফিজুর রহামনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় শিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল, এনসিপির ঠাকুরগাঁও জেলার আহব্বায়ক খলিলুর রহমান, খেলাফত মজলিস নেতা রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
দেলাওয়ার হোসেনের দাঁড়িপাল্লার পক্ষে শ্রমিক সমাবেশ
ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের সমর্থনে শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান। তিনি বলেন,আওয়ামী স্বৈরাচারের নির্যাতনের শিকার হওয়া দেলাওয়ার হোসেন জনগণের সেবা করার সুযোগ পেলে এলাকার মানুষের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবেন।
সম্প্রতি সোমবার বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মুজিবুর রহমান ভূঁইয়া, রংপুর বিভাগের সহকারী অঞ্চল পরিচালক অধ্যাপক আবুল হাশেম বাদল, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মিজানুর রহমান, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আল মামুন ইসলাম এবং ৩ নং জগন্নাথপুর ইউনিয়ন জামায়াত আমীর হাফেজ আব্দুর রশিদ। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ফেডারেশনের ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি অধ্যক্ষ মতিউর রহমান।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে ইঙ্গিত করে আতিকুর রহমান অভিযোগ করেন, অতীতে স্বৈরাচারী সরকারের আমলে যারা নির্যাতন ও মামলার শিকার হননি, তাদের ভূমিকা নিয়েও ভোটারদের বিবেচনা করা উচিত।
ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে সামান্য অর্থ বা উপহার দিয়ে ভোট নেওয়ার চেষ্টা করা হতে পারে। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর এসব প্রার্থী জনগণের কল্যাণে অর্থ ব্যয় করবেন কি না, তা বিবেচনা করে ভোট দিতে হবে।
কৃষকদের দুর্ভোগের প্রসঙ্গ তুলে ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, সার বিতরণ ও ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতি এবং দলীয়করণের কারণে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। দলীয় কর্মী ও আত্মীয়স্বজনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ফলে সাধারণ কৃষকদের বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে।
আতিকুর রহমান ঠাকুরগাঁওবাসীকে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেলাওয়ার হোসেন নির্বাচিত হলে জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবেন এবং এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায়, এবং
শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায় এবং দায়িত্বশীল শ্রমিক সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি কাজ করবেন। একই সঙ্গে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের পক্ষে শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
উপনির্বাচন: ঠাকুরগাঁও-১
সার সংকটসহ কৃষকদের সমস্যার সামধান করব- মির্জা ফয়সল আমীন
ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা
আগামী ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, আপনারা যদি আমাকে এমপি নির্বাচিত করেন, তাহলে কৃষকদের সারের সংকট দূর করতে খোলা বাজারে সার বিক্রি করাসহ অন্যান্য সমস্যার সমাধানের ব্যবস্থা করব। আমাদের ঠাকুরগাঁও হলো কৃষি প্রধান এলাকা। এখানে কৃষকরা ভালো না থাকলে আমরা কেউ ভালো থাকব না। কৃষকরা নায্য মূল্যে সার, বীজ, পানি কীটনাশক পায় সে লক্ষ্যে কাজ করব। আমরা জানি, আপনারা সারের জন্য কষ্ট পাচ্ছেন। সংসদে যেতে পারলে কৃষকদের এই দুর্ভোগ লাঘবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। গত রোববার বিকালে ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লী উপজেলার বড়গাঁও ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী পথসভা ও উঠান বৈঠকে তিনি এসব প্রতিশ্রুতি দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন তুহিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সাইদ,বড়গাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আহম্মদ আলীসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
