ফরজ গোসলের সময় নাকের ভেতরে পানি দেওয়া নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে নাকের নরম অংশ বলতে কতটুকু বোঝায়, পানি কতটা গভীরে পৌঁছাতে হবে এবং ভেতরে পানির ঝাঁজ অনুভব করা জরুরি কি না— এসব বিষয়ে বিভ্রান্তি দেখা যায়। কেউ কেউ নাকের ভেতরে জোর করে পানি টেনে নেওয়াকেও গোসলের আবশ্যকীয় অংশ মনে করেন। তবে এ বিষয়ে হানাফি ফিকহের গ্রন্থগুলোতে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা রয়েছে।
সম্প্রতি এক ব্যক্তি এ বিষয়ে জানতে চেয়ে প্রশ্ন করেন, ফরজ গোসলের সময় নাকের নরম অংশের ভেতরে পানি পৌঁছানোর সীমা কতটুকু? নাকের সামনের নরম অংশ পেরিয়ে শক্ত হাড় পর্যন্ত পানি নেওয়া কিংবা ভেতরে পানির ঝাঁজ অনুভব করা কি জরুরি?
এর জবাবে গাজীপুরের মিরাশপাড়া বাইতুল মামুর জামে মসজিদের খতিব মুফতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, ফিকহের পরিভাষায় নাকের নরম অংশকে ‘মারিন’ (المارن) বলা হয়। নাকের শক্ত হাড়ের নিচে থাকা নরম অংশের ভেতরের ত্বক পর্যন্ত পানি পৌঁছানো ফরজ। তবে নাকের একেবারে গভীরে জোর করে পানি টেনে নেওয়া কিংবা পানির ঝাঁজ অনুভব করা ফরজ নয়।
তিনি বলেন, ইমাম ইবনে নুজাইম (রহ.)-এর আল-বাহরুর রায়েক গ্রন্থে নাকে পানি দেওয়ার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলা হয়েছে, ‘নাকের মারিন পর্যন্ত পানি পৌঁছানোকে ইস্তিনশাক বলা হয়।’ গ্রন্থটিতে নাক ও মুখে পানি দেওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যত্ন নেওয়াকে সুন্নত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। (আল-বাহরুর রায়েক, ১/২২)
অন্যদিকে, আল্লামা ইবনে আবেদিন শামি (রহ.)-এর রদ্দুল মুহতার গ্রন্থে নাকের নরম অংশ ধৌত করার আবশ্যকতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, নাকের যে অংশ নরম, তা পবিত্র করা আবশ্যক। (রদ্দুল মুহতার, ১/১৩৪)
রোজাদার ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে তিনি বলেন, নাকে পানি দেওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যত্ন নেওয়ার বিষয়ে হাদিসেও নির্দেশনা রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নাকে পানি দেওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যত্ন নাও, তবে তুমি রোজাদার হলে নয়।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ১৪২; জামে তিরমিজি, হাদিস ৭৮৮)
এ হাদিসের আলোকে রোজা অবস্থায় নাকে পানি দেওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত গভীরতা অবলম্বন করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ, জোরে পানি টানলে তা গলার ভেতরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।