শরতের মৃদু বাতাস কিংবা চা-স্টলের ধোঁয়া ওঠা কাপ-কিশোরগঞ্জের হাওরবেষ্টিত মিঠামইন উপজেলার ৪ নং ঘাগড়া ইউনিয়নে এখন সবখানেই এক পরিচিত আবহ। নির্বাচন কমিশন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেনি, অথচ হাওরের মাঠে-ঘাটে, ঘাটে বাঁধা নৌকায় আর পাড়ার মোড়ে মোড়ে বইছে নির্বাচনী আগাম হাওয়া।
তবে এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে যিনি সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছেন, তিনি এক পরিচ্ছন্ন ও শিক্ষিত তরুণ মুখ-সমাজসেবক মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল। ভোটারদের মুখে মুখে ঘুরছে তাঁর নাম। কিন্তু প্রশ্ন জাগতেই পারে, কেন তাঁকে নিয়ে সাধারণ মানুষের এই তুমুল কৌতূহল? কে এই জনপ্রিয় মুখ?
মোহাম্মদ মোস্তফা কামালের জন্ম ঘাগড়া ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ভরা গ্রামে। জনসেবার শিক্ষা তিনি পেয়েছেন পারিবারিকভাবেই। তার বাবা হাবিবুর রহমান সরকার ছিলেন ভরা গ্রামের ৩ বারের নির্বাচিত সফল ইউপি সদস্য। বাবার হাত ধরে বাল্যকাল থেকেই সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখের সাথী হওয়ার শিক্ষা পেয়েছেন তিনি। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, পদের অপেক্ষা না করেই বিগত দুই বছর ধরে তিনি নিরলসভাবে ইউনিয়নের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে চলছেন। উঠান বৈঠক, গণসংযোগ কিংবা মেঠোপথে হেঁটে হেঁটে সাধারণ মানুষের দুখ-কষ্টের কথা শুনছেন মোস্তফা কামাল। তার বিনীত আচরণ, সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা এবং সহজেই মানুষের হৃদয়ে মিশে যাওয়ার দক্ষতা তাকে দলমত নির্বিশেষে সবার কাছে প্রিয় পাত্র করে তুলেছে।
মাঠপর্যায়ে ঘাগড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বললে ফুটে ওঠে তার মানবিক কাজের খণ্ডচিত্র।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রবীণ ভোটার জানান, যেকোনো কঠিন সময়ে বা বিপদে-আপদে তারা মোস্তফা কামালকে পাশে পেয়েছেন এবং নিঃস্বার্থভাবে তিনি অসহায়দের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। সিহারা গ্রামের বিশিষ্ট মুরুব্বি গোলাপ মিয়া জানান, দক্ষিণ হাটির মসজিদের উন্নয়ন কাজে তাঁর অবদান প্রশংসনীয়। এছাড়া চমকপুর আলিম মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা হারিছ ও মাওলানা খূর্শিদ জানান, সমাজের অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার প্রসারেও তিনি সমান আন্তরিক। সম্প্রতি তিনি নিজস্ব অর্থায়নে প্রতিষ্ঠানের একজন খণ্ডকালীন শিক্ষকের বেতনের দায়িত্ব নিয়েছেন। চমকপুরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রতন শিকদারও বলেন, ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় তিনি সবসময়ই আন্তরিক।
একজন উচ্চশিক্ষিত ও তরুণ নেতৃত্বের ভাবনা অন্য দশজনের চেয়ে কিছুটা আলাদাই হয়। মোস্তফা কামাল তার ইউনিয়নকে একটি আধুনিক মডেল ইউনিয়নে রূপান্তরিত করার স্বপ্ন দেখেন। তার উন্নয়ন ভাবনার মূল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে-ইউনিয়নজুড়ে প্রাথমিক থেকে শুরু করে মাদ্রাসা ও মাধ্যমিক শিক্ষার মান বৃদ্ধি, জরাজীর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দরিদ্র-মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি ও সহায়তা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি তরুণ ও যুবসমাজকে মাদকের করাল থাবা থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলার সুব্যবস্থা করা এবং তাদের কর্মমুখী ও দক্ষ যুবশক্তিতে রূপান্তর করা।
নির্বাচনী তফসিল ঘনিয়ে এলে নতুন অনেক প্রার্থীই হয়তো মাঠে নামবেন এবং নির্বাচনী সমীকরণ আরও পরিবর্তন হবে। তবে বর্তমানের সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও গণসংযোগের গতি বিচারে মাঠের দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন মোস্তফা কামাল।
