সিনিয়র কিংবা জুনিয়র অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতা মানেই ফলাফল নিয়ে বিতর্ক-সমালোচনা। এক আসর আগেই বাংলাদেশের দ্রুততম মানবী শিরিন আক্তার নারীদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টে ফলাফল নিয়ে জোর আপত্তি তুলেছিলেন। আগামী পরশু থেকে শুরু হতে যাওয়া আরাফাত রহমান কোকো ১৮তম জাতীয় সামার প্রতিযোগিতায় ডিজিটাল নির্ভর ফলাফলের প্রস্তুতি নিয়েছে ফেডারেশন।
আজ (বুধবার) দুপুরে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে সংবাদ সম্মেলনে অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আলী ইমাম তপন বলেন, ‘ফটোফিনিশিংয়ের নিখুত ও দ্রুত ফলাফলের জন্য ৭ জন বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার থাকবেন। ৩-৪টি ডিসপ্লে বোর্ড থাকবে যাতে আপনারা সবাই দেখতে পারেন। প্রতি ইভেন্ট শেষ হওয়ার ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে ফলাফল আসবে।’
অ্যাথলেটিক্সকে মাদার অফ অল ডিসিপ্লিন বলা হয়। বাংলাদেশে আশি-নব্বই দশকে অ্যাথলেটিক্সের জনপ্রিয়তা ছিল। পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ান পর্যায়ে অর্জনও ছিল। অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের নবগঠিত অ্যাডহক কমিটি আসন্ন এসএ গেমসে দশটি পদকের লক্ষ্য নির্ধারণের পাশাপাশি স্বতন্ত্র ভেন্যুর দাবিও জানিয়েছে। সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমরা স্বর্ণ, রৌপ্য, ব্রোঞ্জ মিলিয়ে পাকিস্তান এসএ গেমসে দশটি পদকের লক্ষ্য ঠিক করেছি। অ্যাথলেটিক্সের আলাদা ভেন্যু প্রয়োজন। নিবিড় ও দীর্ঘমেয়াদী অনুশীলনের জন্য স্থায়ী আবাসন ক্যাম্প দরকার।’
তিন দিন ব্যাপী প্রতিযোগিতায় নারী-পুরুষ মিলিয়ে ৪০ ইভেন্ট রয়েছে। ফুটবল মাঠের সুরক্ষার জন্য থ্রো ইভেন্ট আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতি ইভেন্টে পদকজয়ীরা ক্রমান্বয়ে ৬, ৫ ও ৩ হাজার টাকা পুরস্কার পাবেন। রেকর্ডধারীদের জন্য বরাদ্দ ২০ হাজার টাকা। প্রতিযোগতিার মূল পৃষ্ঠপোষক ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। এছাড়া ওরিয়ন গ্রুপ, নোমান গ্রুপ, শেলটেক, টিকে গ্রুপসহ প্রায় বিশটির বেশি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সহায়তা রয়েছে। ফেডারেশনের সভাপতি ও নোমান গ্রুপের কর্ণধার আব্দুল্লাহ জাবের বলেন, ‘অ্যাথলেটিক্সের উন্নয়নে সবার সহযোগিতা চাই। এজন্য অনেক প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। ছোট হলেও যেন অ্যাথলেটিক্সের সঙ্গে থাকে।’
সংবাদ সম্মেলনের ব্যানারে অনেক পৃষ্ঠপোষকের লোগো থাকলেও সরকারি ছুটি চলমান থাকায় ফেডারেশন কর্তারা নিজেদের অর্থেই ব্যয় বহন করছেন। এ নিয়ে সাধারণ সম্পাদক তপন বলেন, ‘সামারে ৪০-৫০ লাখ টাকার মতো ব্যয় হয়ে থাকে। রাষ্ট্রপতির আগমনে উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতায় খানিকটা ব্যয় রয়েছে। আমরা অতিরিক্ত কোনো খরচ করছি না।’
এজেড/এফএইচএম
