মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের কালিগঞ্জ বাজারে প্রকাশ্যে দিবালোকে ছদ্মবেশে এক রক্তক্ষয়ী ও নারকীয় হামলার ঘটনা ঘটেছে। বোরকা পরে এবং দেশীয় অস্ত্র ও হাতবোমা নিয়ে একদল হামলাকারী সাধারণ মানুষের ওপর তাণ্ডব চালায়। এই হামলায় ৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, স্থানীয়দের গণধোলাইয়ে গণপিটুনির শিকার হয়ে তাইজুল ইসলাম নামে এক হামলাকারীর মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দিনের আলোতেই হামলাকারীরা নিজেদের পরিচয় লুকাতে নারীর পোশাক (বোরকা) পরিধান করে কালিগঞ্জ বাজারে প্রবেশ করে। তাদের কাছে ছিল দেশীয় ধারালো অস্ত্র এবং ককটেল বা হাতবোমা।
বাজারে হঠাৎ করেই তারা এলোপাতাড়ি হামলা ও হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। হামলাকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মৃত মোতালেব চৌকিদারের দুই ছেলে জহির চৌকিদার ও মহাসিন চৌকিদার গুরুতর জখম হন। একই সময়ে হামলাকারীদের ছোঁড়া হাতবোমার বিস্ফোরণে আজিম, রফিক ও সবুজ নামে আরও তিনজন আহত হন। মুহূর্তের মধ্যে পুরো বাজার এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে।
হামলা চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করার সময় বাজারের উপস্থিত ক্ষুব্ধ জনতা ধাওয়া করে হামলাকারীদের একজনকে ধরে ফেলে। পরবর্তীতে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে কালকিনি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং গুরুতর আহত অবস্থায় ওই হামলাকারীকে উদ্ধার করে।
তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক ওই হামলাকারীকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত হামলাকারীর নাম তাইজুল ইসলাম বলে শনাক্ত করা হয়েছে।
ধারালো অস্ত্রের কোপে ও বোমার আঘাতে গুরুতর আহত জহির চৌকিদার, মহাসিন চৌকিদার, আজিম, রফিক এবং সবুজকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। যেকোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে ঘটনাস্থলে এবং পুরো কালিগঞ্জ বাজার এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হামলার পেছনের মূল কারণ ও জড়িত অন্যান্য হামলাকারীদের শনাক্ত করতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
