খুলনার বটিয়াঘাটা ও দাকোপ উপজেলার প্রবাহমান নদী-খালকে বন্ধ জলাশয় দেখিয়ে ইজারা দেওয়ার কার্যক্রম বন্ধ এবং এসব জলাশয় উন্মুক্ত ঘোষণা করে সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা লোকজ ও মৈত্রী কৃষক ফেডারেশন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) খুলনা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মৈত্রী কৃষক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিভাষ মণ্ডল।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বটিয়াঘাটা ও দাকোপের কৃষি, মৎস্য আহরণ ও গ্রামীণ অর্থনীতি নদী-খালের পানিপ্রবাহের ওপর নির্ভরশীল। প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা, ফসলের ক্ষতি, মাছের উৎপাদন হ্রাস ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের আশঙ্কা বাড়ে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নদী-খাল উন্মুক্ত রাখা জরুরি।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, বটিয়াঘাটা উপজেলার আমতলা, খড়িয়া, বটবুনিয়া, বরাখালী, ছোটখড়িয়া, মরাখড়িয়া, গোল্ডামারী ও বটিয়াঘাটা খালসহ কয়েকটি প্রবাহমান জলাশয়কে বন্ধ জলাশয় দেখিয়ে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালের ২ এপ্রিল প্রায় ৬০ একর আয়তনের আমতলা নদী গঙ্গারামপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের নামে ছয় বছরের জন্য বছরে এক লাখ ১০ হাজার টাকায় ইজারা দেওয়া হয় বলে দাবি করেন আয়োজকরা। তাঁদের অভিযোগ, নদীতে নেট-পাটা ও বাঁধ স্থাপনের কারণে পানিপ্রবাহ, কৃষিকাজ এবং সাধারণ মানুষের মাছ ধরার অধিকার ব্যাহত হচ্ছে।
বক্তব্যে বলা হয়, ২০০৬ সালের ১২ আগস্ট তৎকালীন ভূমিমন্ত্রী এবং ২০০৭ সালের ৮ মে খুলনার জেলা প্রশাসকের কাছে নদী-খাল উন্মুক্ত রাখার দাবিতে আবেদন করা হয়। পরবর্তী সময়ে তদন্ত, প্রশাসনিক প্রতিবেদন ও আদালতের আদেশের পর ২০১০ সালের ১ ডিসেম্বর ইজারা কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। ২০২২ সালের ২৮ এপ্রিল সংশ্লিষ্ট দেওয়ানি মামলাটি প্রত্যাহার করা হয়।
বিভাষ মণ্ডল জানান, গত ১৭ জুলাই জেলা প্রশাসকের গণশুনানিতে নদী-খালের ইজারা বন্ধের আবেদন করা হয়। ২০ ও ২৭ জুলাই তদন্ত কার্যক্রমের পর ২৭ জুলাই সংবাদমাধ্যমে আমতলা নদী ইজারা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরদিন প্রশাসন নদী ও আশপাশের খাল থেকে নেট-পাটা অপসারণ করে। তবে তাঁদের মতে, স্থায়ী সমাধানে এখনো কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
এ ছাড়া ২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে কয়েকটি খাল ইজারার উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টিও তদন্তের দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ভূমি ব্যবস্থাপনা ম্যানুয়ালের ১৮৭ ও ১৮৮ অনুচ্ছেদ, জলমহাল ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০০৯-এর ১৫(ঘ) ধারা এবং জাতীয় চিংড়ি নীতিমালা-২০১৪-এর ৫.২.৪ ও ৫.২.৫ ধারা অনুসারে বিষয়টি পর্যালোচনার আহ্বান জানানো হয়।
আয়োজকদের দাবি, সংশ্লিষ্ট নদী-খালের সীমানা, আয়তন, পানিপ্রবাহ, ভূমি রেকর্ড ও ইজারা-সংক্রান্ত নথি যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে ইজারা বাতিল এবং আইন অনুযায়ী প্রবাহমান জলাশয়গুলো সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে মৈত্রী কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল ও লোকজের নির্বাহী পরিচালক দেবপ্রসাদ সরকারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
