পেশাজীবন মানবজীবনের অতীব জরুরি ও জটিল একটি অধ্যায়। সেটা যে পেশাই হোক না কেন- আপনাকে জানতে হবে অবিরত। ঠেকে এবং ঠকে শিখতে হবে। যেকোনো প্রতিক’ল পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সর্বদা প্রস্তত থাকতে হবে।
মেনে নেয়া এবং মানিয়ে নেয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। এতকিছুর মাঝেও আপনার নিজস্বতা বা স্বকীয়তা প্রতিষ্ঠান ও সহকর্মীদের মাঝে স্পষ্ট করে তোলতে হবে। পেশার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।
- যে কাজটি করবেন তার প্রতি আপনার মমতা থাকতে হবে। দায় এবং দায়িত্ববোধ থাকতে হবে। আপনার কাজটিই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কাজ মনেকরে যদি কাজটি করা যায় তাহলে আপনার পেশাজীবন সফল ও সার্থক হতে পারে।
পেশাজীবন সম্পর্কে জ্ঞানার্জনের আগে আসুন অন্য একটি গল্প শোনা যাক-
আব্রাহাম লিংকন প্রথম যেদিন প্রেসিডেন্ট হয়ে পার্লামেন্টে ভাষণ দিচ্ছিলেন তখন এক ভদ্রলোক দাড়িয়ে বললেন, ‘লিংকন সাহেব ভুলে যাবেন না আপনার বাবা আমাদের পরিবারের জন্য জুতা তৈরি করে দিতেন। কারণ একজন মুচির ছেলেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে অনেকেই মেনে নিতে পারেননি।’

একথা শোনার পরে সবাই চুপ হয়ে গেলেন কিন্তু লিংকন মোটেই বিচলিত হলেন না । লিংকন লোকটির চোখে চোখ রেখে বললেন, ‘আমি জানি স্যার আমার বাবা আপনার কেন এখানে অনেকেই আছেন যাদের পরিবারের জন্য জুতা তৈরি করতেন।
এজন্য আমি গর্বিত, কারণ আমার বাবা ছিলেন জুতা তৈরির জন্য জিনিয়াস একজন কারিগর। তিনি কাজকে কখনো ছোট করে দেখতেন না। বাবা ছিলেন জুতা তৈরির নিপুণ কারিগড় ।
আজ পর্যন্ত তার কোন কাজের সমালোচনা হয়নি, কারণ তিনি কাজ করতেন শুধু গ্রহিতার সন্তুষ্টির জন্য নয় নিজের সন্তুষ্টির জন্যও।
আপনার যদি কোন অভিযোগ থাকে তাহলে বলুন আমি আপনাকে এক জোড়া জুতা তৈরি করে দেব আমি ও ভাল জুতা তৈরি করে পারি।’
একথা শোনার পর লোকটি লজ্জায় মাথা নিচু করে রইলেন, তখন লিংকন বললেন,‘কোন কাজকেই ছোট ভাববেন না কাজকে সম্মান করুন তা না হলে সারাজীবন অন্যের দয়ায় বাচঁতে হবে।
একজন রুইমাছ দিয়ে খায় তা দেখে হিংসা না করে পারলে আপনি কৈ মাছ দিয়ে খান। ভাল কাজের প্রশংসা করুন, মন্দ কাজ বর্জন করুন।’

পেশা সম্পর্কে ধারণাটি খুবই ষ্পষ্ট। আপনি চাকরি করেন এাঁ আপনার পেশা। যিনি জুতা সেলাই করেন সেটা তাঁর পেশা। স্বপেশার জায়গায় সব সমান মর্যাদা সম্পন্ন। কারণ মুচি ছাড়া চাকরিজীবির চলবেনা, চাকরিজীবিকে ছাড়া মুচিরও চলবে না।
আমাদের সামাজিক পেশাগুলো একে অপরের বা পরস্পরের পরিপূরক। সজ্ঞায়িত অর্থে পেশা বলতে একটি নির্দিষ্ট ধরণের কাজ বা কর্মসংস্থানকে বোঝায়, যা সাধারণত একজন ব্যক্তি দীর্ঘ সময় ধরে করে থাকেন এবং যেটি বিশেষ দক্ষতা, প্রশিক্ষণ, এবং শিক্ষা দ্বারা পরিচালিত হয়ে থাকে।
অন্যভাবে বলা যায়, পেশাজীবী হলেন সেই ব্যক্তি যারা তাদের পেশাগত ক্ষেত্রের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ, শিক্ষা, এবং দক্ষতা অর্জন করে থাকেন এবং তারা পেশাগত মান, নৈতিকতা, এবং শৃঙ্খলা অনুসরণ করেন।

- প্রচলিত অর্থে পেশাজীবীরা সাধারণত একটি প্রতিষ্ঠিত ক্ষেত্র বা ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করেন, যেমন চিকিৎসক, আইনজীবী, শিক্ষক, প্রকৌশলী ইত্যাদি।
ব্যাখ্যামূলকভাবে যদি বলি তাহলে- পেশাজীবী বলতে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তি যেমন- ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী, একাউটেন্ট, সার্ভেয়ার, বীমা প্রতিনিধি ইত্যাদিকে বোঝায় যারা টাকার বিনিময়ে তাদের সেবা বিক্রয় বা প্রদান করে থাকে।
মনে রাখতে হবে, পেশাজীবীর জন্য যেসব গুণাবলীর আবশ্যিক-
- নিয়ামানুবর্তিতা বা সময়ানুবর্তিতা
- সততা প্রদর্শন, শৃঙ্খলা বজায় রাখা
- কাজের প্রতি নিষ্ঠা ও একাগ্রতা
- কর্ম পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্যতা এবং নিরপেক্ষতা
- কথা ও কাজের মধ্যে সমন্বয় রক্ষা করা
- কর্মক্ষেত্রে ন্যায়সঙ্গত রীতি-নীতি মেনে চলা ইত্যাদি।
প্রত্যেক পেশাজীবীর প্রথম এবং প্রধান করণীয় হচ্ছে সততা ও নিষ্ঠার সাথে অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা। যারা নিজেদের পেশাদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিতি করতে চান বা সাফল্য অর্জন করতে চান তারা অবশ্যই এসব ব্যপারে অধিক সচেতন এবং সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
সূত্র : 'পেশাজীবনে সফলতার কথকতা' লেখকের প্রকাশিতব্য গ্রন্থ থেকে সংকলিত
