কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে আরিফ মিয়া সালমান নিখোঁজের ৫ মাস পর তার ৭৭ টুকরা কঙ্কালসহ লাশ সনাক্ত করা হয়েছে। সালমানকে হত্যার পর নদীতে ফেলে দেওয়া হয় এবং ওই ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। গতকাল সকালে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানানো হয়।
তিনি জানান, চলতি বছরের ১৮ মে সন্ধ্যা ৬টার দিকে আরিফ মিয়া সালমান হোসেনপুর উপজেলার সাহেদুল ইউনিয়নের কুড়িমারা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে ইলিম বাজারের উদ্দেশে বের হয়ে আর বাড়ি ফেরেননি। সালমানের কোনো খোঁজ না পাওয়ায় পরদিন ১৯ মে হোসেনপুর থানায় সালমানের বাবা মো. ফজলুল রহমান একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
পুলিশ সুপার জানান, জেলা গোয়েন্দা শাখা কাজ শুরু করে। এক পর্যায়ে ভিকটিমের ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, ভিকটিম ও বন্ধুদের মোবাইল ডাটা, কথোপকথন সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করে ভিকটিম সালমানকে তার বন্ধুরা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হয় জেলা গোয়েন্দা শাখা। এরই মধ্যে ভিকটিমের বাবা তার ছেলের সন্ধান না পাওয়ায় গত ১৬ অক্টোবর অজ্ঞাত আসামিদের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন হোসেনপুর থানায়।
এদিকে মামলার তদন্তকালে ভিকটিমকে হত্যার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়ায় ওসি ডিবি মো. বাহার মিয়ার নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- পার্শ্ববর্তী পাকুন্দিয়া উপজেলার বিশ্বনাথপুরের গোলাপ মিয়ার দুই ছেলে সাকিব ও মাফি, মৃত মোতালেবের ছেলে রফিক ও শামছুদ্দিনের ছেলে রমজান মিয়া।
