মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ওলামা লীগ নেতা ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক সেফুল সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে নানা অপতৎপরতার অভিযোগ উঠেছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদের শাসনামলে কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নে সেফুল সিদ্দিকী ও তার তিন ভাইয়ের তাণ্ডব এবং রাজনৈতিক জালিয়াতি স্থানীয় জনগণকে অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য ও ভাটেরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বদরুল আলম সিদ্দিকী নানু এবং তার ভাই ভাটেরা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এখলাছ সিদ্দিকীকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে পুরো এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়। ক্ষমতার দাপট ও স্থানীয় প্রশাসনকে ব্যবহার করে ভোট ডাকাতি, ভুয়া মামলা দিয়ে বিরোধী মত দমন এবং চরম দুর্নীতি ছিল তাদের নিত্যদিনের কাজ।
সেফুল সিদ্দিকী ও তার ভাইদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব ও চক্রান্তের বড় প্রমাণ মেলে ২০১৮ সালের বিতর্কিত নিশিরাতের জাতীয় নির্বাচনের সময়। তৎকালীন নির্বাচনে অনৈতিক সুবিধা হাসিল করা এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার উদ্দেশ্যে নানু সিদ্দিকী নিজেই ভাটেরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নির্বাচনী কার্যালয়ে আগুন লাগিয়ে দেন। এরপর সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিথ্যা নাটক সাজিয়ে বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর বানোয়াট মামলা দায়ের করেন।
উক্ত সাজানো মামলায় বিএনপি নেতা সৈয়দ রনি হাসান সালামকে প্রধান আসামি এবং স্থানীয় জামায়াত নেতা আব্দুল হামিদ খানসহ বিরোধী দলের বহু নিরপরাধ নেতাকর্মীকে আসামি করে এলাকাছাড়া করা হয়। এভাবে ফ্যাসিবাদের হাতকে শক্তিশালী করতে তারা নিজের কার্যালয়ে নিজেরাই আগুন দিয়ে মিথ্যা মামলার ঢাল তৈরি করে সাধারণ মানুষ ও বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর নির্যাতন-পীড়ন চালায়।
বর্তমানে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটলেও থেমে নেই সেফুল সিদ্দিকী ও তার ভাইদের পেছনের কারিগর ও ষড়যন্ত্রকারীরা। আমেরিকা প্রবাসী ও বিতর্কিত উলামা লীগের নেতা, তাদের বড় ভাই সাইফুল আলম সিদ্দিকী সেফুল সম্প্রতি দেশে ফিরে আওয়ামী লীগকে পুনরায় কুলাউড়ায় সুসংগঠিত করার গভীর পরিকল্পনা ও অপচেষ্টা চালাচ্ছে। প্রবাসে বসে ফ্যাসিবাদের মদদ দেওয়া এবং উলামা লীগের নামে ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা এই সেফুল সিদ্দিকী দেশে ফিরে এলাকাকে আবারও অস্থির করার পাঁয়তারা করছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তাদের এই রাজনৈতিক পুনর্বাসনের চক্রান্তে স্থানীয় ছাত্র-জনতা ও অতীতে শোষিত রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে সাইফুল আলম সিদ্দিকী সেফুল মুঠোফোনে জানান, আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করার খবরটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। মূলত আমার জন্মমাটি ভাটেরা ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন করার উদ্দেশ্যেই ৪০ বছরের আমেরিকা জীবনের ইতি টেনে দেশে ফিরেছি।
তিনি আরও দাবি করেন, বিগত সময়ে আমি তিনবার ভাটেরা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করলেও আমাকে ষড়যন্ত্র করে হারানো হয়েছিল। এবার আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করব।
