আন্তর্জাতিক বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সিঙ্গাপুর, কাতার ও জাপানের তিনটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে সিঙ্গাপুরের বিপি সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে পাঁচ কার্গো এবং কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসি থেকে অতিরিক্ত এক কার্গো গ্যাস কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জাপানের জেরা গ্লোবাল মার্কেটস প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে গ্যাস কেনার বিষয়ে নীতিগত অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এবং অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির পৃথক বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রোববার অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে সিদ্ধান্তগুলোর কথা জানানো হয়েছে।
প্রাসঙ্গিক সংবাদ
সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বিপি সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে পাঁচ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস কেনার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানটি থেকে অতিরিক্ত গ্যাস সংগ্রহের সুযোগও রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রতি দশ লাখ ব্রিটিশ তাপীয় একক গ্যাসের দাম জাপান-কোরিয়া বাজারদরের তুলনায় শূন্য দশমিক ১৭ মার্কিন ডলার কম নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারি ক্রয় আইন, ২০০৬-এর ৬৮ ধারা এবং সরকারি ক্রয়বিধিমালা, ২০২৫-এর ৯৯(২) বিধি অনুসরণ করে এ ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
একই বৈঠকে সরকার থেকে সরকার পর্যায়ের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসি থেকে অতিরিক্ত এক কার্গো গ্যাস কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আগামী ২০ ডিসেম্বর এই গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ কার্গোর প্রতি দশ লাখ ব্রিটিশ তাপীয় একক গ্যাসের দাম জাপান-কোরিয়া বাজারদরের চেয়ে শূন্য দশমিক ১০ মার্কিন ডলার কম রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে জাপানের জেরা গ্লোবাল মার্কেটস প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস কেনার প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এ প্রস্তাব উত্থাপন করে।
এই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন এবং জেরা গ্লোবাল মার্কেটসের মধ্যে স্বল্পমেয়াদি গ্যাস বিক্রয় ও ক্রয় চুক্তি এবং শর্তপত্রের খসড়া চূড়ান্ত করে তা স্বাক্ষরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারের এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গ্যাস সংগ্রহের ব্যবস্থা জোরদার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে তিনটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে গ্যাস কেনার মোট ব্যয় এবং এর ফলে দেশের জ্বালানি সরবরাহে কী পরিমাণ প্রভাব পড়বে, সে বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
-20261025082438.jpg&w=1440&q=75)