ছবির ক্যাপশন: .
কামরুল হাসান, রাজধানী প্রতিবেদক
বাংলাদেশের জন্ম ইতিহাস কোনো সাধারণ রাজনৈতিক ঘটনা নয়। লাখো শহীদের রক্ত, মা-বোনের ইজ্জত এবং কোটি মানুষের অসীম ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের লাল-সবুজের পতাকা। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জাতীয় অস্তিত্বের ভিত্তি। এই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং আত্মমর্যাদা।
তবে অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, স্বাধীনতার ৫ দশকেরও বেশি সময় পর আজ আমাদের সমাজে নানা মতাদর্শগত ও রাজনৈতিক মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। এই বিভাজন কখনো কখনো আমাদের এমন এক বিন্দুতে নিয়ে দাঁড় করায়, যেখানে রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি প্রশ্নবিদ্ধ হয়। অথচ একটি স্বাধীন জাতির টিকে থাকার জন্য কিছু মৌলিক প্রশ্নে আপসহীন ঐক্য থাকা জরুরি। আর সেই মৌলিক প্রশ্নটি হলো একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ।
বিভাজনের ঊর্ধ্বে একাত্তরঃ আমাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে ভিন্নমত থাকবে, বিতর্ক থাকবে এবং গণতন্ত্রের সৌন্দর্যই হলো বহুমতের সহাবস্থান। কিন্তু এই ভিন্নমত যেন কখনো আমাদের জন্ম-ইতিহাস বা স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তির সঙ্গে আপস করার অজুহাত না হয়। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা সরাসরি বিরোধিতা করেছিল, দেশের অখণ্ডতা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত ছিল, তাদের সঙ্গে কোনো আপস হতে পারে না। স্বাধীনতা বিরোধীদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের সুযোগ না দিয়ে, আমাদের প্রতিটি নাগরিককে একাত্তরের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
ঐক্যের প্রয়োজনীয়তাঃ আজ বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক জটিলতা বাড়ছে। ঘরের ভেতরে বিভেদ থাকলে তা বাইরের শক্তিকে সুযোগ করে দেয়। অর্থনৈতিক অগ্রগতি, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনে আমাদের পারস্পরিক বিভেদ দূর করা আবশ্যক। আমরা কে কোন দলের সমর্থক কিংবা কার আদর্শে বিশ্বাসী—তা গৌণ হয়ে ওঠা উচিত যখন প্রশ্ন ওঠে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের। একাত্তরের আদর্শ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, জাতি হিসেবে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে যেকোনো সংকট মোকাবিলা সম্ভব।
নতুন প্রজন্মের দায়বদ্ধতাঃ আজকের তরুণ প্রজন্ম যারা মুক্তিযুদ্ধের চাক্ষুষ সাক্ষী নয়, তাদের কাছে একাত্তরের সঠিক ইতিহাস ও চেতনা পৌঁছে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। স্বাধীনতা বিরোধীদের মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ও ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে হবে এবং মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য—সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।
পাদটীকাঃ আসুন, সকল ক্ষুদ্র স্বার্থ, দলীয় কোন্দল এবং অহংকার ভুলে আমরা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এক হই। স্বাধীনতা বিরোধীদের যেকোনো ষড়যন্ত্রকে রুখে দিতে জনতার ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। লাল-সবুজের পতাকার নিচে আজ আমাদের একটা পরিচয়—আমরা বাঙালি, আমরা স্বাধীন দেশের গর্বিত নাগরিক।
