রাতের আঁধারে তিলাওয়াত করতে হবে একটি সূরা! কথিত আছে, এই সূরা পাঠের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে অভাব-অনটন থেকে মুক্তির সুসংবাদ। কিন্তু, কোন সূরা এটি? সত্যিই কি প্রতি রাতে এই সূরা তিলাওয়াত করলে অভাব দূর হয়? এ বিষয়ে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কী বলেছেন? আর কখন তিলাওয়াত করবেন এই সূরা?
পবিত্র কোরআনের ৫৬ নম্বর সূরা আল-ওয়াকিয়া। কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার বর্ণনা, মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের বিষয়ে সন্দেহ পোষণকারীদের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হয়েছে। হাশরের ময়দানে অগ্রবর্তী দলের পরিচয়, ডান ও বাম দিকের লোকদের অবস্থান এবং আমল অনুযায়ী নিয়ামত ও আজাব ভোগের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে এখানে। দুনিয়ার কৃষিকাজ, ফসল উৎপাদন, সৃষ্টি ও জীবনের নানা রহস্য এবং জান্নাতের নিয়ামত ও প্রাচুর্যের বর্ণনাও রয়েছে এই সূরায়।
সূরা ওয়াকিয়ার গুরুত্ব ও তাৎপর্য সম্পর্কে ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে একটি বর্ণনা রয়েছে। তিনি বলেন, একদিন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, হে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আপনি তো বৃদ্ধ হয়ে পড়েছেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, সূরা হুদ, সূরা ওয়াকিয়া, সূরা মুরসালাত, সূরা আম্মা ইয়াতাসাআলুন এবং সূরা ইযাশ শামসু কুউইরাত আমাকে বৃদ্ধ করে দিয়েছে। হাদিসটি জামে আত-তিরমিজিতেও বর্ণিত হয়েছে।
সূরা ওয়াকিয়ার ফজিলত সম্পর্কে একটি বর্ণনায় বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি প্রতি রাতে এই সূরা তিলাওয়াত করবে, তার ওপর অভাব আসবে না। বর্ণনাটি মিশকাতুল মাসাবিহ্সহ হাদিসের বিভিন্ন গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে। তবে, এই হাদিসের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে মুহাদ্দিসদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে; অনেক হাদিসবিশারদ বর্ণনাটিকে দুর্বল বলেছেন। তাই সূরা ওয়াকিয়া পড়লেই আর্থিক অভাব হবে না, এটিকে নিশ্চিত প্রতিশ্রুতি হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক নয়।
তাহলে সূরা ওয়াকিয়া কখন পড়তে হবে? কোরআন তিলাওয়াতের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময় বাধ্যতামূলক নয়। দিনের যেকোনো সময় এই সূরা পাঠ করা যায়। মাগরিবের নামাজের পরও পড়তে পারেন। তবে মাগরিবের পরই সূরা ওয়াকিয়া পড়তে হবে, কিংবা এই সময়ে পড়লেই নিশ্চিতভাবে সম্পদ বাড়বে, এমন নির্দিষ্ট নির্দেশনার নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায় না।
পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত মুসলমানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। সূরা ওয়াকিয়ার আয়াতগুলো মানুষকে কিয়ামত, পরকাল এবং মহান আল্লাহর ক্ষমতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। পাশাপাশি হালাল উপার্জন, আল্লাহর ওপর ভরসা, দোয়া ও সৎকর্মের মাধ্যমে রিজিকের জন্য চেষ্টা করাও ইসলামে গুরুত্বপূর্ণ।
