কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে উছমানপুর ইউপি নির্বাচনে সদস্য পদে প্রার্থিতা ঘোষণাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হুমকিতে এক প্রবাসীর পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। প্রাণনাশের ভয়ে দুই শিশুর স্কুলে যাওয়া বন্ধ হওয়ায় শিক্ষাজীবন নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, মেম্বার পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দেন স্থানীয় ব্যবসায়ী পারভেজ মিয়া ও সৌদিপ্রবাসী মো. কাদির মিয়া। কাদিরকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে চাপ দিয়ে ব্যর্থ হয়ে পারভেজ ও তার সমর্থক স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. সেতু মিয়া পরিবারটিকে ভয়ভীতি দেখানো শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, গত ২৩ আগস্ট সেতু মিয়ার সমর্থকেরা লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রবাসীর বাড়িতে ঢুকে গালিগালাজ করে, শিশুদের হত্যার হুমকি দেয় এবং প্রবাসীর স্ত্রী রাবেয়া বসরির মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলে।
হুমকিতে ভুক্তভোগী কাদির মিয়ার মেয়ে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী আদিবা তাবাসসুম (৯) ও ছেলে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র মাহমুদুল হাসান রাফির (১৩) স্কুলে যাওয়া বন্ধ রয়েছে। শিশু রাফি জানায়, রাস্তায় আটকে তাকে ও তার বাবাকে ঝুলিয়ে পেটানো এবং মারধর করার হুমকি দেওয়ায় সে ভয়ে বাড়ি থেকে বের হতে পারছে না।
প্রবাসীর স্ত্রী রাবেয়া বসরি বলেন, ‘বাড়িতে কোনো পুরুষ না থাকার সুযোগে তারা সন্তানদের মেরে ফেলার ভয় দেখাচ্ছে। আতঙ্কে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র দিন কাটাচ্ছি। সন্তানদের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাই।’
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী কুলিয়ারচর থানায় জিডি ও কিশোরগঞ্জের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। সহকারী শিক্ষক ওয়াসিম চৌধুরী জানান, রাফি খুবই মেধাবী ছাত্র। গত ৯ সেপ্টেম্বর তাকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার পর থেকে সে আর স্কুলে আসছে না। প্রতিপক্ষের ভয়ে ছেলেটি গৃহবন্দি আছে, ফলে তার পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত পারভেজ মিয়া ও ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সেতু মিয়া দাবি করেন, নির্বাচনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে। ওসি মোজম্মেল হক জানান, জিডির বিষয়ে আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইউএনও সাফফাত আরা সাইদ জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।